উদ্যোক্তা – ব্যর্থতা, শিক্ষা, পরিস্থিতি এবং সাফল্য

সারা বিশ্বে হাজার হাজার স্টার্টআপ প্রতিদিন নতুন প্রোডাক্ট তৈরি করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, শতভাগের মধ্যে ৭৫ ভাগ স্টার্টআপ ব্যর্থ হয় এই পথে। এটা কিন্তু একটা ভালো দিক। স্টার্টআপ এর জন্ম হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। যার ফলে অভারঅল ইকোসিস্টেমকে ঠিক রাখতে সাহায্য করছে। একজন উদ্যোক্তা কে এই পথে নামার পূর্বে জানা উচিৎ যে, কেন ওই কোম্পানি ব্যর্থ হল, তাদের কোথায় সমস্যা ছিল, তাদের ম্যানেজমেন্ট কেমন ছিল এসব বিষয় নিয়ে অনেক বেশি পড়াশুনা করা।

আমরা ভালোবাসি সাকসেস সব মানুষদের উদ্যোক্তা জীবনী পড়তে। যারা সেইসব কাঁটাযুক্ত পথ অতিক্রম করে একটা সাকসেসফুল ব্যবসা দাড় করিয়ে ফেলেছে। আমরা সেগুলো শুনতে চায়, শিক্ষা নিতে চায়। সোজা কথায় যদি বলি তাহলে রেপ্লিকা হতে চায়। কিন্তু একটা সার্ভাইভারশিপে এটা একটা বিশাল সমস্যার অন্যতম কারন হয়ে দাড়ায়। সেদিন এই বিষয় নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম।

স্টার্টআপ নিয়ে অনেক কিছুই লিখতে ইচ্ছে করে। কারন আমাদের দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ ভুল স্টাডি করে স্টার্টআপ নিয়ে। কিছু প্রত…

Posted by Tafser Ahmed on Sunday, October 25, 2015

 

এছাড়া বিজনেস রিসার্চার জেসন চোহেন তার একটা লেখাতে সুন্দর একটা লাইন লিখেছিলেন, যেটা আমার খুব পছন্দের একটা উক্তি

সাকসেস স্টোরি থেকে শিক্ষা গ্রহন করলে, তোমার স্বপ্ন শুধু গভীর হবে। এরপর তুমি ওই সাকসেস গল্পের মত তোমার বিজনেস কে রেপ্লিকার মত সাজাবে। কারন সাকসেস গল্পগুলো এই মানুষের মস্তিক কে এভাবেই প্রভাবিত করে থাকে। যা কিনা তোমার লম্বা চলার পথটা খুব ক্ষণস্থায়ী তে পরিণত হয়।

বর্তমান বিশ্বে স্টার্টআপগুলো যেভাবে কমিউনিটি করেছে তৈরি করেছে, যেটা আসলেই অসাধারন। কারন এখনকার স্টার্টআপ তাদের ব্যর্থতা শেয়ার করতে একটু ইতস্ততবোধ করে না।

যাইহোক সে গল্প শুরু করার পূর্বে ৪ টি বড় বড় কোম্পানির ধ্বস নিয়ে একটু কথা বলব।

গোউলা

গৌলা বিশাল বড় একটি লোকাল সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইট ছিল। যেখানে মিলিয়ন এর উপর পিপল এর একটা সোশ্যাল ঘাটিই ছিল। ২০০৭ সালে এই কোম্পানির জন্ম হয়। গৌলা ২০১২ সালে এসে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। তাদের বিভিন্ন সমস্যার কারন ম্যাস পিপল এর কাছে পৌছাতে পারি নি। কারন তাদের সাইটটি মোটেও ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ ছিল না। স্মার্টফোন টেকনোলোজি আসার পুর্বেই আবার তাদের ওয়েব অ্যাপ ছিল। যার জন্য তারা অনেক বেশি পজেটিভ রেসপন্স পেয়েছিল। কিন্তু সেই ফিচার তারা সরিয়ে নেই।

গৌলা প্রায় ৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন এর মত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল রেইজ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা ৩ মিলিয়নে ফেসবুক এর কাছে বিক্রি করে দিতে হয়। তাদের অর্জিত অনেক কিছু থাকার পরও তারা ফেইল করে।

কেন ফেইল করেছিল গৌলাঃ সর্বদা ব্যবসার ক্ষেত্রে মনে রাখা উচিৎ যে, জায়ান্ট কোম্পানির সাথে কম্পিটিটিং-এ নামা উচিৎ না। কারন আপনার যদি ১ বাড়ানোর ক্ষমতা থাকে তবে তাদের থাকে ১০০ পা। আর তাই তারা জায়ান্ট। টেকনোলোজি নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে সর্বদা এটা ট্রেন্ডস ঠিক মত ফলো করতে পারার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া। গৌলা যদি টিকে থেকে এখন আত্মপ্রকাশ করত তবে তারা অনেক কিছুই করতে পারত কারন এখন মোবাইল অ্যাপস এর যুগ। সুতরাং তারা যদি ওই সময়ে ওই পরিমান ব্যবহারকারী পেয়ে থাকে, তবে এখন সেটা সীমার বাইরেই পৌঁছাত। তারা সবকিছু অর্জন করেও ব্যর্থ হয় ।

পে বাই টাচ

তাদের প্রচুর ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, মানুষ ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে লেনদেন করবে। এবং এতে প্রচুর পরিমান ব্যাংকগুলোর সাড়া পায়। ২০০৭ সালে এই কোম্পানি দেউলিয়ার হয়ে যাবার পুর্বেও তারা ফ্রড ব্যাংকিং বোর্ড ইস্যু সমাধানও করে। ইনভেস্টর কোম্পানি প্রধানের উপর অনেক বেশি অখুশি ছিল, কারন ফাউন্ডার মিলিয়ন ডলার উপর শুধু খরচ কেনা-কাটার উপর। যেটার প্রভাব পড়ে তাদের এক্সিকিউটিভদের উপর। কারন তারা এক্সিকিউটিভদের সেলারি দিতে যেয়ে তখন হিমশিম খাচ্ছিল। তাও সময়টা কোম্পানি শুরুর ৬ মাসের মধ্যে এই সমস্যা তে পড়ে যায়।

মানুষ তখন অভ্যাস্ত হয়ে উঠেছিল ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড এর উপর। আর তাদের ফেইল করার জন্য এই একটি পন্থায় যথেষ্ট ছিল।

কেন ফেইল করেছিলঃ পেই বাই টাচ সমাধান করে নন-একজিস্টিং সমস্যা। যেটার আসলে তেমন কোন অস্তিত্তের প্রয়োজন নেই। যার কারনে এত বড় একটা কোম্পানি এবং এত টাকার একটা ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি হয়েও ফেইল করে। মানুষ তাদের প্রোসেস কে সাধুবাদ জানায় । তারা এটাকে অনেক ভালো একটা দিক হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু প্রোডাক্টটা এমন ছিল না যে, এটা ছাড়া বেচে থাকা যাবে না। আর বেশিরভাগ স্টার্টআপ এই ভুল-ই করে থাকে। তারা স্টিল চিন্তা করে ব্যবসাতে নেমে পড়ে, কিন্তু আসল যায়গা টা চিন্তা করে না।

রিয়েলনেম কর্পোরেশন

১৯৯৭ সালে কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়। তারা মাইক্রোসফট এর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে কোন ধরনের এক্সটেনশন ছাড়াই টপ লেবেলের ডোমেইনগুলোকে শো করানো তাদের ইউজারদের সামনে।

১৩০ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং এর পরও ২০০২ সালে বন্ধ করে দিতে হয় মাইক্রোসফট এর একটা সিদ্ধান্তে।

কেন ফেইল করলঃ রিয়েলনেম আসলে সার্ভাইভ করার জন্য নির্ভর ছিল একটা জায়ান্ট কোম্পানি এর উপর। সুতরাং একটা স্টার্টআপ কখনই কারোর উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিৎ না। যদি এইরকম প্রমাণ চান, তবে হাজার হাজার প্রমান দিতে পার। বাংলাদেশের অলিতে গলিতে এখন থিম কোম্পানি তৈরি হয়েছে। প্রত্যেকটা স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে থিমফরেস্ট ভিত্তিক হয়ে।কিছুদিন আগে আমি যখন এনভাটোর ফোরামে যায়, তখন সব পাওয়ার এলিট অথোরদের হাহাকার পড়তে থাকি। সেল নাই, সেল নাই। এরকম অনেক স্টার্টআপ বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

আমাকে দেখাতে পারবেন যে, এই কোম্পানিটা মার্কেটপ্লেস ভিত্তি করে উঠে ভালোকিছু করতে পেরেছে? নাই, তো পারবেন কিভাবে? একটা সময় এগুলোও এইরকম ফেইল খাতায় নাম লিখাবে। ভালো কিছু করুক এই কামনা।

পেটস ডট কম

পপুলার ডট কম এরা পেট কেয়ার প্রোডাক্ট অনলাইন এর মাধ্যমে বিক্রি করত। তারা মাত্র ২ বছর অর্থাৎ ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করতে পাড়ে। এরপর ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হয়। তারা মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর জন্য মিলিয়ন ডলার ঢালে।

ফাউন্ডারদের মধ্যে কয়েকজন চিন্তা করতে থাকে যে, পেট ইন্ডাস্ট্রিতে তেমন কোন প্রোফিট নেই। পেট সাপ্লাই, খেলনা ইত্যাদিতে প্রচুর খরচ সুতরাং এখানে লাভ হওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া পেটস ডট কম ডিস্কাউন্টে সেল করত। সুতরাং এখানে আসলে কিছু হওয়ার পরিসিবিলিটি ছিল না ভেবেই কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কেন ফেইল করলঃ যদি নিজের উপর কঠিনভাবে বিশ্বাস রাখতে পারেন, তবে ব্যবসা করতে নামবেন, অন্যথায় নয়। ফিলিপস একটা সুন্দর কথা বলে যায়

অনেক বেশি ফাউন্ডার কোম্পানি অধঃপতনের অন্যতম কারন। কারন তারা সর্বদা ভীত থাকে। অথবা স্ট্রাগেলিং পিরিয়ডে কোন কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আমি প্রমিজ করছি যে, আপনার কাজগুলো অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে যদি আপনি নিজেকে সৎ রাখতে পারেন, এবং আপনার পাশে গুটি কয়েকজন সৎ মানুষ থাকে।

এটা ছিল সেইসব কোম্পানি যারা আজকের মার্কেটে থাকলে হয়ত অনেক উঁচু চূড়াতে উঠতে পারত। কিন্তু তারা সেটা পারে নি। উঠেও তারা ফেইল করে গেছে।

২৫ টা বেস্ট স্টার্টআপ এর একটা সুন্দর পোস্টমর্টেম এই লেখাটিতে গেলে পাবেন। আশা করি ভালো লাগবে। প্রত্যেকটা ইন্ডিভিজুয়াল লেখা পড়ার পর পোস্টমর্টেম পড়বেন, তাহলে আসল রহস্যগুলো ধরতে পারবেন। কেন তারা বেস্ট ছিল এবং কেন তারা টিকতে পারল না। সুতরাং এটা পরিস্কার যে, বেস্ট হলেও যে, ফেইল আসবে না। সেটা ভাবাটা বোকামি।

ব্যবসা করতে গেলে, প্রত্যেকটা সময় কে মূল্যায়ন করে চলতে হবে। ট্রেন্ডস বা মার্কেট এর কি চাহিদা সেটার সাথে রিসার্চে পড়ে থাকতে হবে। চিন্তা করেই ব্যবসা শুরু করে দিলেন, সাকসেস হয়ে গেল ঠিক তা না। মাইক্রোসফট এই সময়ে এসেও কিন্তু ফেইল করে। তার বড় প্রমাণ নোকিয়া। নোকিয়া কিনে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম পুশ করে। যেটা তাদের সবথেকে বড় ভুল ছিল।

মানুষের নোকিয়ার প্রতি যতটুকু ভালোবাসা ছিল সেটাও হারিয়ে যায়। যে যায়গাটা দখল করে নেই স্যামসাং। স্যামসাং বাজে করুক, নকল করুক আর ধার করে চলুক, তারা কিন্তু মার্কেটে কিং। কারোন এন্ড্রোয়েড বাজার যে পরিমান ডেভেলপারদের ভিড় সে পরিমানের ধারের কাছেও ছিল না উইন্ডোজ এর মার্কেট। কিন্তু এন্ড্রোয়েড থেকে উইন্ডোজ অ্যাপ তৈরি অনেক বেশিই সহজ ছিল।

ব্যর্থতাকে কিভাবে সফলতাতে পরিনত করবেনঃ

ব্যর্থ হয়ে নিজেকে ভীতুর ডিম প্রমান করার কোন সুযোগ ব্যবসাতে নেই। ব্যবসা একটা গেম। আপনাকে এখানে আসলে মনস্থির করতে হবে যে, এই গেমে আপনাকে যেভাবেই হোক জিততেই হবে। যখন ব্যর্থ হবে তখন সফল মানুষদের গল্প করবেন। কারন ওই সময়টা আপনার মানুষিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। কিন্তু আপনি যদি কাজটা আগেই করে যান, তবে ওই সময় সাফল্যর ওই গল্প পড়ে আপনার জন্য কিছুই করতে পারবে না। কারন আপনার ব্রেন এমনভাবে খেলবে যে, ওই সাফল্যর গল্পগুলো তুচ্ছ মনে হবে।

20150120192522-stuck

সময় অনুযায়ী প্রত্যেকটা পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। এতে করে ওই পদক্ষেপটা আপনার জন্য কাজে দেয়। কখনও কখনও একটু অ্যাডভান্স হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখা উচিৎ। এতে মঙ্গল ছাড়া অমঙ্গল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। সারাদিন জ্যাক মা, আর বিল গেটস এর ইতিহাস পড়লে সেটা শুধু মানুষকে বলার মত গল্প করার কাজেই দিবে। আপনার কোন কাজে দিবে না।

ব্যবসাতে এসেছেন মানে, আপনাকে সম্পূর্ণ কন্সট্রেশনটা ব্যবসাতে রাখতে হবে। ব্যবসায়ীক অ্যাডভাইস এর জন্য কখনও কোন ব্যবসায়ীর কাছে যাবেন না। কারন প্রত্যেক ব্যবসায়ী তার নিজ নিজ ব্যবসাতে মগ্ন থাকে। তাই সে সেই যায়গা টা ভালো বলতে পারবে। এর বেশি কিছু তার থেকে আমি এক্সপেক্ট করি না।

ব্যবসায়ীক অ্যাডভাইস এর জন্য সর্বদা রিসার্চার এর কাছে যান। কারন একজন রিসার্চার সব ধরনের কোম্পানির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেই তবে একটা ভালো এস্টিমেট দিতে পারবে। যাইহোক আসল কথাতে আসি। আলবার্ট আইনস্টাইন একটা কথা বলেছিল

ব্যর্থতা হচ্ছে সাফল্যর একটি ধাপ

একজন ব্যর্থ মানুষ কিভাবে সাফল্যর দিকে যেতে পাড়ে, সে বিষয়ে কিছু কথা বার্তা বলার চেষ্টা করব।

ব্যর্থতা যেভাবে অসাধারন পরিবর্তন আনতে পারেঃ

একজন ব্যর্থ উদ্যোক্তা ২ টি জিনিস চিন্তা করতে পারে। প্রথমটি হচ্ছে হতাশা আর দ্বিতীয় টি হচ্ছে উন্নতির দিকে মনযোগী হওয়া। এখানে দ্বিতীয় পদ্ধতি টা অনেক কঠিন একটা কাজ । কারন মানসিক চিন্তাটা তখন চাইলেও ঠিক রাখা সম্ভব না। আর যে ঠিক রাখতে পারে, সেই পরবর্তী দিন সাফল্য নিয়েই তবে ফিরে আসে।

যখন একজন উদ্যোক্তা হোচট খায়, তখন সে জানে যে কি কারনে হোচট খেয়েছিল। আমি এই কারন ব্যর্থতার গল্প পড়তে বলেছি যে, আসলে সে কি কারনে সেই হোচট খেয়েছিল। যদি আপনি জানতে পারেন, তবে আপনি ওইটার জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে পারবেন। ওই খারাপ সময়গুলো তে ব্রেঙ্কে সর্বদা চার্জে রাখতে হয় মোটিভেশনাল গল্প দিয়ে।

যদি আপনি ওই ব্যর্থ পয়েন্টগুলোকে এক যায়গা তে নোট ডাউন করতে পারেন, তবে পরবর্তীতে আপনার চলার পথ আরও সহজ হয়ে উঠবে।

ব্যর্থ ব্যাক্তি যেভাবে তৈরি করে সুন্দর মুহূর্তঃ

একজন ব্যর্থ উদ্যোক্তা যখন সফল হতে পারে, তখন একমাত্র সেই উদ্যোক্তা “আহ” মুহূর্তটা তৈরি করতে পারে। এটা ঠিক কঠিন একটা ম্যাথ সমাধান করার পর যে ফিলিং অনুভব হয়। এটা প্রথমে বুঝে উঠা অনেক কষ্ট।

এই মুহূর্ত এর কথা যদি ব্যর্থতার প্রতি সিম্পেথি দেখান, তবে আপনি হচ্ছে দুনিয়ার সবথেকে জঘন্যতম ব্যর্থ ব্যাক্তি। মুহূর্তটা তৈরি করার জন্য এবং সেই ফিলটা অনুভব করার জন্য হলেও আরও একবার চেষ্টা করা উচিৎ। আর বেশিরভার উদ্যোক্তা সেই পথের সন্ধানে আবার হাটেন এবং তারা একমাত্র সেই অনুভবটা বুঝতে পারেন। একজন ব্যর্থ উদ্যোক্তা আপনাকে এই যায়গাতে সাপোর্ট দেওয়ার সর্বদা হাত বাড়িয়ে রাখে।

ব্যর্থতা যেভাবে উদ্যোক্তা মনোবল বৃদ্ধি করেঃ

একজন ব্যর্থ ব্যাক্তি জানে যে, তার সাথে কি মিথ্যা হয়েছিল। আর উদ্যোক্তা ব্যাপারটা আসে সেই সময় যখন সে কিছু জানে না, ব্যর্থতা তাকে সেটার শিক্ষা দেয়। একজন ব্যর্থ ব্যাক্তি তার মেধাকে তখন ক্যাটাগরি অনুসারে ভাগ করতে পারে। কারন যা হয়েছিল সেটা তার এক্সপেক্টেড ছিল না । একজন উদ্যোক্তা অনেক কিছুই পরিকল্পনা করে নামে। আর যখন সে ব্যর্থ হয়, সে তখনি শুধুমাত্র বুঝতে পারে যে কি ধরনের পরিকল্পনা তৈরি করলে পরবর্তীতে সে আর সেই ভুল গুলো করবে না।

তাই ব্যর্থতা যে সুধু ব্যার্থতা আর জীবনের স্বপ্নগুলোকে যে মুছে দেয়, ঠিক তা না। এটা নতুন করে শক্তি আর সাহস যোগাতে সাহায্য করে। ব্যর্থ হওয়াটা একটা কপালের ব্যাপার।

৬ টা বিষয় সর্বদা মাথায় রাখবেনঃ 

  • ব্যর্থতা কখনও শেষ হয় না। বরং ব্যর্থতা চলার পথটা শুরু করতে আপনাকে সাহায্য করে।
  • শুরুতেই যে আপনি সফল হবেন, সেটা কখনও আশা করবেন না ।
  • স্টার্টআপ ব্যর্থ হলে সেটা নিয়ে কষ্ট না পেয়ে নতুন করে চলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারন সময় ইকুয়াল মানি।
  • দানব সব কম্পিটিটরদের কে ফলো করুন। তাদের কাছে কি অপারচুনিটি আছে আর আপনার কাছে কি নেই। সেটার জন্য ছুটতে থাকেন।
  • স্টার্টআপ ব্যর্থ হওয়ার পেছনে আপনার একা দোষ নেই। সুতরনাগ ব্যাপারটা ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে কষ্ট পাবার কিছুই নেই।
  • নিজেকে মূল্যায়ন করুন এবং আস্থা ও  বিশ্বাস রাখেন। কোন কিছুই আপনার বাধা হয়ে দাড়াতে পারবে না।   

যেসব কারনে অনলাইন বিজনেসগুলো ব্যর্থ হয়ঃ

অনলাইন ব্যবসা শুরু যদি করার চিন্তা-ভাবনা করে থাকেন , তবে মাথায় রাখবেন আপনার সাথে সম্পৃক্ত যেসব ব্যবসাগুলো আছে, তারা কেমন করছে? অথবা যায়গাগুলো এখন কোন অবস্থানে আছে। তারা কোন দিকে ভালো করছে আর কোন দিকে ভালো করছে না। ভালো না করার দিকগুলো কেন, আর ভালো করার দিকগুলো কেন। এগুলো হচ্ছে মার্কেট এনালাইসিস। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু একটা অনলাইন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে। আমার কাছে এমন কিছু কারন মনে হয়েছে, যে সমস্যার কারনে বেশিরভাগ অনলাইন বিজনেসে ধ্বস নেমেছে।

auses-Of-Business-Failure

হিসাব এর অঙ্কে গড়মিলঃ

বেশিরভাগ অনলাইন কোম্পানি তাদের ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট টা ঠিক মত পর্যবেক্ষণ করে না। যার কারনে খুব দ্রুত এই ধরনের কোম্পানিগুলো ক্রাশ হয়ে যায়। বেশিরভাগ উদ্যোক্তা ইনকাম করার পূর্বেই হিসাবের বাইরে টাকা খরচ করে। কিন্তু প্রাথমিক দিকে একটা ছোট্ট স্টেপ এর ক্ষেত্রে ভেবে নেওয়া উচিৎ যে, এই টাকাটা আসলে আমার কি রিটার্ন দিবে বা আসলে এটা রিটার্ন দিয়ে সক্ষম কি না?

পকেটে আছে ১০ লক্ষ টাকা। ১ লক্ষ টাকা স্পেস ভাড়া দেওয়া। যেখানে একটা টেবিলে বসে কাজ করা যায়, মানুষ দেখানোর তাগিদে ১০ টা টেবিল নিয়ে আসা। এগুলো হচ্ছে অবাঞ্ছিত ব্যয়।প্রাথমিক দিকে শুধুমাত্র আপনার মাথায় রাখা উচিৎ যে, আমার পাশে যে টিম আছে তারা কতটুকু ভালো, এবং তারা এই বিজনেসকে বিশ্বাস করছে কি না, তাদের লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার মত সামর্থ্য এবং শক্তি আছে কি না?

অনলাইন ব্যবসাটা নিশ্চয় একটা ল ফার্ম না। যেখানে মানুষকে ইম্প্রেস করার জন্য হাই প্রোফাইল অফিস নিতে হবে। যে টাকাগুলো খরচ সেখানে করতে হবে সেটা যদি টিম মেম্বারদের পেছনে এবং অফিসের বিভিন্ন সফটওয়্যার এর পেছনে খরচ করেন, তবে ওই টাকাটা আপনার কাজে দিবে, যেটা আপনার হাই-প্রোফাইল অফিস তৈরি তে সাহায্য করবে।

প্রতিদিন অফিস এক্সপেন্স ম্যাথ করা উচিৎ। এবং সেই পর্যন্ত করা উচিৎ যেই পর্যন্ত না গেলে আপনার অফিসে একজন ফাইনান্সিয়াল এনালাইসিস জব হোল্ডার আপনার রাখার প্রয়োজন হয়। এবং কম করে হলেও প্রতিদিন দুইবার চেক করে নেওয়া উচিৎ যে, টাকাগুলো সঠিক এবং সেগুলোর প্রোপার ব্যবহার হচ্ছে কি না।

রেভিনিউ মডেলঃ

স্টার্টআপদের কাছে আমার সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটা থাকে, সেটা হচ্ছে তাদের রেভিনিউ মডেল কি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্টার্টআপ কোন ধরনের রেভিনিউ মডেল তৈরি না করেই ব্যবসাতে নেমে পড়ে। কিন্তু একটা ব্যবসা শুরুর চিন্তা করার পূর্বে এই সঠিক উত্তর নিজে জেনে এরপর ব্যবসা তে নামা উচিৎ। কিভাবে রেভিনিউ আসবে? ইনকামটা কতদিন যাবত থাকবে? যদি ইনকাম এই মডেলে না আসে, তবে কোন মডেলটি ব্যাকআপ প্ল্যান হিসেবে রাখা উচিৎ ? কিভাবে এই প্রোফিটগুলো ভাগ হবে? ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়েই রেভিনিউ মডেল তৈরি হয়। 

যদি ব্যবসাটা সফল করতে হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই উচিৎ একের অধিক আয় এর পথ খোলা রেখে কাজ করা। কারন যেকোনো একদিকে ইনকাম কম আসতেই পারে। আর এটা খুব সাধারন হিসাব। কিন্তু আপনি যদি এটার ব্যাকআপ পথ খোলা না রাখে, তবে প্রথমে আপনাকে ওয়ার্কারদের সেলারিগত সমস্যা এরপর ইনভেস্টার সমস্যা এবং শেষপর্যন্ত ব্যর্থতার খাতায় নাম লেখাতে হবে। সুতরাং ব্যবসা শুরুর পূর্বে বিজনেস রেভিনিউ মডেলটা দাড় করানো বাধ্যতামুলক । 

আমাদের দেশের বেশিরভাগ ই-কমার্স বিজনেসগুলো ব্যর্থ হবার পেছনে এটা একটি অন্যতম কারন। যেখানে মার্কেট তৈরি করে ব্যবসা করতে হবে, সেখানে তারা এই ধরনের রেভিনিউ মডেল তৈরি না করে কিভাবে ব্যবসাতে ঝুকে, আমার কোন আইডিয়া নেই। অতি সাহসী বলা চলে।

 সু-পরিকল্পনা এবং স্ট্রাটেজিঃ 

বেশিরভার স্টার্টআপ ইনভেস্টর নেয়, কিন্তু মিথ্যা বলে। যেটা আদৌ সম্ভব না, সেটা জানার পরও ইনভেস্টমেন্ট নেয়। আর যদি জেনেও থাকে, তবে সেটার মধ্যে কোন ভুলত্রুটি আছে কিনা যাচাই করে না। বাংলাদেশের কয়েকজন স্টার্টআপ এর কাছে যখন আমি জিজ্ঞাস করি যে, আপনার স্ট্রাটেজি কি এটার জন্য। তখন তারা উত্তর দিতে চায় না। কারন একটাই মনে করে যে, তার বিজনেস আইডিয়া নিয়ে আমি মার্কেটে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আসবো। কিন্তু ধারনাটা সম্পূর্ণ ভুল। 

আপনার প্ল্যান নিয়ে কেউ কখনও আগাবে না। কারন আমরা কেউ বিল-গেটস বা মার্ক জুকারবার্গ না যে, টাকাতে আমাদের সমস্যা নেই। আমাদের ২ কদম হাটতে গেলে ভাই পেছন দিয়ে রক্ত বের হয়ে যায়। তাই শেয়ার এর মাধ্যমে নিজদের প্ল্যান পাকাপোক্ত করে নেওয়া উচিৎ। একটা আলোচনাতে কোন না কোন নতুন স্ট্রাটেজি তৈরি হয়। এভাবে প্রত্যেক স্ট্রাটেজি যখন আপনার পাকাপোক্ত হবে, তবেই ব্যবসাতে নামা উচিৎ।  

যখন ইনভেস্টররা তাদের রেভিনিউ এর জন্য সিইও প্রেশার করে, তখন তারা ওই ইনভেস্টরকে বাদ দেওয়ার চিন্তা করে অন্য আরেকজনকে খোজার চেষ্টা করে। তাছাড়া তারা ইনভেস্টর কে কখনও তাদের প্রোপার প্ল্যান এবং স্ট্রাটেজি শেয়ার করে না। যার কারনে ইনভেস্টর আরও বেশি হাংরি হয়ে যায়। তারা মনে করে যে, কোন না কোনভাবে হয়ত এখানে কিছু লুকানো হচ্ছে। ফলে ইভেস্টর আরও বেশি রেভিনিউ এর জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকে। 

বেশিরভাগ এর চিন্তা০ভাবনা থাকে যে, ইনভেস্টমেন্ট নিব। বাজারের সবথেকে বড় ইলিশ কিনব, এরপর বাকীটা চিন্তা-ভাবনা করে দেখব। যদি নিজের কাছে সৎ না থাকতে পারেন, তবে শিউর থাকেন যে, আপনার জন্য বিজনেস না। একই সাথে রেভিনিউ মডেল তৈরির সময় উচিৎ যে, হিসাবটা নিখুদ আছে কিনা এবং এটা ইনভেস্টরকে রিটার্ন দেওয়ার সময়-সীমা অতিক্রম করবে কি না। প্রয়োজন সময় বেশি নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনাকে বাস্তবরূপ দান করা। 

মার্কেটিং প্ল্যান:

প্রত্যেকটা স্টার্টআপ শুরু হয়, কোন না কোন গ্রেট পরিকল্পনা, প্রোডাক্ট  অথবা সার্ভিস নিয়ে। কিন্তু সঠিক কোন মার্কেটিং প্ল্যান নিয়ে চিন্তা করে না। আর যদিওবা করে থাকে, তবে সেটার জন্য সীমিত পরিমান বাজেট রাখা হয়। যা তুলনামূলক নগণ্য। আমাদের ভাবনা এইরকম যে, আমরা মার্কেটার রাখব কদু টাইপের একজন, এরপর তাকে দিয়ে আমি মার্কেটিং করব। 

একজন কোয়ালিটি মার্কেটার সবথেকে কম কাজ করে থাকে। যে মার্কেটার অতিরিক্ত কাজ করে, আপনি ধরেই নিতে পারেন, এই লাইনে নুব। যদি মার্কেটার বসাই রেখে আপনার চার্জ দিতে হয়, তবে সেটা দেওয়ার জন্য মনস্থির করে রাখুন। কারন তার একটা মার্কেটিং আইডিয়া আপনার ব্যবসা একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত নিতেই সাহায্য করবে। কিন্তু এই ঘটনার সম্পূর্ণ উলটা হয়।

আমরা টাকার নামে টাকা ঠিক ঢালি। কিন্তু সঠিক যায়গাতে না। ব্যবসা শুরুর পূর্বে মার্কেটিং পদ্ধতি এবং কিভাবে ট্র্যাফিক কে কনভার্ট করা যায়, সেটার সঠিক পরিকল্পনা, স্পেশাল বাজেট এবং টার্গেট গোল ফিক্স করে তবে ব্যবসাতে হাত দিন। এতে ব্যবসার উন্নতি ছাড়া ক্ষতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

মার্কেটিংটা হচ্ছে সেক্স এর মত। যত বেশি আপনি ইম্প্রেশনটা ভালো করতে পারবেন, ট্র্যাফিক তত বেশি আপনার কাছে আসবে। তাই ট্র্যাফিককে কনভার্সন করার মাথায় রেখে প্ল্যান করুন। রিয়েলস্টীক প্ল্যান করবেন। যে প্ল্যানে আপনার হিউজ বাজেট দরকার বা অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন, সেই ধরনের মার্কেটিং পদ্ধতি থেকে বিরত থাকুন। তাতে যদি আপনার খরচ একটু বেশি লাগে, সেটা করেন। মূল কথা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট ঠিক রেখে তবেই আপনাকে লংটাইম প্রোসেস এর চিন্তা করা উচিৎ। এতে সফল না হলে লসের পরিসংখ্যানটা কমে আসে।

৩ টা কারনে অনলাইন ব্যবসা ধ্বংস হয়

  • আপনার সাইটে যথেষ্ট ট্র্যাফিক নেই। যদিও বা থাকে, তবে সেগুলো পটেনশিয়াল ক্লায়েন্ট না। সুতরাং আপনার মার্কেটিং প্ল্যানে সমস্যা ।
  • ভুল রেভিনিউ মডেল।
  • অথবা আপনার বিজনেস আইডিয়াটা অত্যন্ত বাজে। রিসার্চ করা ছাড়াই আপনি এই বিজনেসে নেমেছেন।  

ব্যর্থ পরিস্থিতি যেভাবে সামলাবেন

কোন স্টার্টআপ জার্নিতে যখন মন্দা আসে, তখন না চাইলেও আসলে চোখ-মুখে একটা অন্ধকার ভাব আসে। চাইলেও এই ইমোশনকে সরানো যায় না। এই সময়টা পার করা অনেক কষ্টের। আমার একটা ছোট্ট এক্সপেরিয়েন্স এর মাধ্যমে এই পয়েন্টটা লিখব। এই পদ্ধতিটা আমি এখনও অবলম্বন করে থাকি।

আমি যখন আমার ভার্সিটি স্টাডি লাইফের মধ্যে আছে, তখন আমরা কয়েকজন মিলে একটা একটা স্টার্টআপ শুরু করি।  ৪ জন তাদের বাসা ছেড়ে অফিসে থাকার প্ল্যান করে, ৩ জন ভালোমানের জব ছেড়ে দেয় আমাদের সাথে কাজ করার জন্য । সবাইকে আসলে সেই কফিডেন্ট লেভেল পর্যন্ত আমি পৌছাতে পেরেছিলাম। যার কারনে সেই এইরকম একটি ডেডিকেটেড টিম আমি হাতের নাগালে পেয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা তখন অনেক দূর। মাত্র স্বপ্নের ঘরে।

why-online-shopping-busines

কিন্তু ৭ মাস পর আমাদের স্টার্টআপ এর পতন ঘটে। এরপর আমি ৩ মাস সম্পূর্ণ মেন্টালি সিক হয়েছিলাম। আসলেই কোন ধরনের কিনারা পাচ্ছিলাম না। এত স্বপ্ন নিয়ে একটা টিম করলাম, সেটাও টিকায় রাখতে পারলাম না। এটা আমার জন্য অনেক বেশি বেদনাদায়ক ছিল এই কারনে যে, আমার কথার উপর কনফিডেন্ট নিয়ে সবাই আসে। যদিও সবাই তার নিজ নিজে যায়গা থেকে আমার সাথে যোগ হয়। এবং কোম্পানি মারা যাবার পরও তারা কখনও আমাকে ব্লেম দেয়নি। কিন্তু নিজের কাছে অনেক বেশি গিল্টি মনে হচ্ছিল। আর তাছাড়া আমার হেরে যাওয়া অভ্যাসটা মোটেও নেই। আমার কাছে প্রত্যেকটা চ্যালেঞ্জজয় ছাড়া ফিরে নি। আমার লাইফের ৮০ ভাগ চ্যালেঞ্জ এর জয় ছিল। তাই নিজের ইগোতে  লাগে কোম্পানি ধসে যাওয়াটা।  

তখন আমার এত স্ট্রাটেজিক্যাল চিন্তা-ভাবনা গ্রো হয় নি। তারপরও কি মনে করে একদিন খাতা-কলম নিয়ে ফ্রেশ মাইন্ডে বসে পড়ি। ৪ টা প্রশ্ন নিজের কাছে করিঃ 

  • আমি কেন এত দ্রুত পড়ে গেলাম ? 
  • স্ট্রার্টআপটা কি ইমোশন আর অভার কনফিডেন্স এর কারনে ফল করল না কি স্ট্রাটেজিক্যাল ভুলের কারনে ফল করল? 
  • আমি কি সবার প্রতি ন্যায্য প্রাপ্য মিটিয়েছিলাম ?
  •  এখন আমার কি সত্যিকার এর অর্থে ফিরে কিছু করার শক্তি বা সামর্থ্য আছি কি না? 

এগুলো নোট-ডাউন করার পর, সবাইকে একদিন দাওয়াত করি। খাওয়া-দাওয়ার পর সবার সাথে মূল ব্যাপারে একটু ফোকাস করি। আসলে আমরা কি করতে চেয়েছিলাম? আমরা তো সবাই একটা এগ্রিমেন্টে ছিলাম, তাহলে কেন আমরা এটা প্যাকআপ করব এবং সবাই বাসাতে ফিরে যাচ্ছি ? 

এরপর কিছু ইন্সপায়ার হওয়ার মত গল্প পড়লাম সবাই মিলে নিজেদের কে সেলফ মোটিভেট করলাম। আমাদের সেদিনের আলোচনা আমার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এবং আমরা টার্ন ব্যাক করি পরিস্থিতি  থেকে। 

যেসকল ব্যর্থ উদ্যোক্তা টার্ন ব্যাক করেছে, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ উদ্যোক্তা সফল হয়েছে। এবং আমরাও হয়েছিলাম। কিছু বিষয় ছিল যেগুলো আমাদের আমার টার্ন ব্যাক করার শক্তি যোগায়। সেগুলো উল্লেখ করব এখানে।

 ইমোশন

আমরা মানুষ, রোবট না। সুতরাং প্রথম ডিল হতে হবে ইমোশনের সাথে। অতীত অভিজ্ঞতার সাথে ইমোশন এর পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। দেখেন যে, আপনি কি ফিল করতেছেন, কোন পয়েন্টগুলো আপনাকে বার বার নাড়া দিচ্ছে। সবকিছু আপনার ব্রেন এর মধ্যে গেথে ফেলুন। 

সমস্যাগুলো লিখে ফেলুন  

এবার খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়ুন । প্রত্যেকটা পরিস্থিতি লিখে ফেলুন। যেটা একজন সাংবাদিক করে থাকে। সমস্যাগুলো তুলে ধরুন। এখানে আর ইমোশনকে পাত্তা দেওয়া যাবে না। লিখেন যে কি হয়েছিল এবং কেন হয়েছিল। আপনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। শুধুমাত্র সুন্দরভাবে পয়েন্টগুলো নোট করে ফেলুন। মাথায় আছে এটা ভেবে যদি না লিখেন, তবে আমার এই পদ্ধতি কাজ করবে না। সুতরাং আপনাকে এটা নোট ডাউন করতে হবে। কি কি হয়েছিল সবকিছু বিস্তারিত লিখতে হবে। এবং কেন হয়েছিল সেটাও। 

কি শিখলেন 

আমাদের ব্রেনে নেগেটিভ এক্সপেরিয়েন্সগুলো সর্বদা কাজ করে একটু বেশি। সুতরাং আপনার মাথার মধ্যে যত ধরনের খারাপ সময় মনে পড়ে, সবকিছু লিখে ফেলুন। এরপর বসে পড়ুন, সেগুলোর সমাধান খুজতে। পৃথিবীতে সবকিছুর সমাধান আছে। সুতরাং আপনি কোন না কোন সমাধান খুজেই পাবেন। এতে দেখবেন, আপনি অলরেডি নিজেকে আবার ব্যবসাতে ব্যাস্ততা নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। আপ্নার এনার্জি লেবেল আবার জাগতে শুরু করবে। নতুন করে চিন্তা শক্তির উৎপত্তি হতে শুরু করবে। 

এবং আপনি যে ভুলগুলো করে এসেছিলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুল সামনে আসলেই সেটা আপনি অভারকাম করতে পারবেন। এটা হচ্ছে সাইকোলজিক্যাল একটা টার্ম যে, মানুষ যত বেশি ধ্যান মগ্ন হতে পারে, তত ভালো কিছু বের করতে পারে। 

বাথরুমে বসে আর মদ খেয়ে সাধারন লাইফে যতটুকু চিন্তা-ভাবনা করা যায়, সেটা অন্য কোথাও হয় না। কারন ওই একটাই কারনে ই দুই জায়গা তে গেলে আপনার ব্রেন যেকোনো একটা দিকে ব্যাস্ত রাখে। তাই, নিজের ব্রেঙ্কে যদি আপনি ব্যাস্ত রাখতে পারেন, তাহলে আপনি আবার খারাপ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন।  

পুনরায় প্ল্যান তৈরি

এখন আপনি দেখেন, পরিস্থিতি আপনি নিজেকে কন্ট্রোলে নিয়ে আসতে পারছেন এবং চিন্তা করার মত নতুন কিছু খুজে পাচ্ছেন। সুতরাং এবার লেখা শুরু করুন আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা। আপনার যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো যেন না হয়, এবং এই ধরনের কি পরিস্থিতি মোকাবেলা ভবিষ্যতে করতে হতে পারে, সেই ধরনের ব্যাপারগুলো লিখে এবং মেন্টালি খাপ খাইয়ে নিন। 

প্রত্যেকটা স্টেপ এর জন্য পারফেক্ট পরিকল্পনা তৈরি করুন। প্রয়োজনে কারোর কন্সাল্টেন্সি নিন। অথবা টীম মেম্বারদের সাথে নিয়ে বিষয়গুলো আরও পরিস্কার করে নিন। তাহলে দেখবেন খুব সহজেই আপনারা আপনাদের নিজেদের অবস্থানট আরও ভালোর দিকে নিতে পারছেন। 

উদ্যোক্তা হতে হলে অনেক ঝড় সহ্য করতে হবে। কিন্তু দমে গেলে হবে না। প্রত্যেকটা কাটা আর সমস্যাকে উপড়ে ফেলে আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে হবে। জীবন একটা গেম। এই গেমে যদি জিততে হয়, তবে নিজের উপর বিশ্বাস রাখাটা অনেক বেশি জরুরী। 

বড় ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার হয়ে কোন লাভ নেই, যদি এই যুদ্ধে জয়লাভ করতে না পারেন। খেলে আসলে, স্থির করতে করতে হবে যে, ব্যাক করার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং সিদ্ধান্তের উপর জোর রেখে পরিস্থিতিকে সামলে নিয়ে তবেই সামনে এগোতে হবে। 

জীবনের যা কিছু ঘটে সবকিছুই একটা গিফট হিসেবে ধরে নিবেন। এমনকি ব্যর্থতা। তাহলে ব্যর্থতাতে সুখ পাবেন। 

সফল হওয়ার জন্য যে স্কিলগুলো থাকতে হবে একজন উদ্যোক্তার মধ্যে

বেশিরভাগ নতুন উদ্যোক্তাদের একটা কমন প্রশ্ন থাকে যখন স্টার্টআপ নিয়ে কথা বার্তা হয়। সেখান থেকেই এই পয়েন্টটি তুলে ধরা। বিষয়গুলো নিতান্তই এই গরীবের মতামত। হয়ত বড় বড় রিসার্চাররা আরও অনেক কিছু বা এর থেকে কম অথবা অন্য কিছু বলতে পারে। এক্সপেরিয়েন্স এর থেকে যতটুকু পারি, সেটুকুই শেয়ার এর চেষ্টা করব।

Entrepreneur

টাকা পরিচালনা  করার ক্ষমতা

খুব সিম্পল একটা পয়েন্ট এটি। যদি আপনি টাকার সঠিক পরিচলান না করতে পারেন, তবে আপনি ব্যবসাও কখনও পরিচালনা করতে পারবেন না। প্রতি মাসে আপনার কি পরিমান খরচ হচ্ছে এবং সেই পরিমানের সাথে ফীডব্যাক কি আসছে, সেগুলো কি আপনি জানেন?  যদি না জেনে থাকেন, তবে স্টার্টআপ যে স্ট্রাগল পিরিয়ডের দিকে হাটতে চলেছে, সেটা শিউর থাকতে পারেন।

টাকা রেইজ করার ক্ষমতা

যেহেতু আপনি টাকার সঠিক পরিচালনা করতে পারেন, তাই পয়েন্টে আসছেন। এখন প্রশ্ন যদি কোন না কোন কারনে আপনার ইনভেস্টর আপনার টাকা দিতে না পারে, বা দেরি হতে পারে, সেক্ষেত্রে আপনি কি ওই টাকা জোগাড় করার মত ক্ষমতা রাখেন? যদি উত্তর না হয়, তাহলে এই গুনটি শক্ত করার চেষ্টা করুন। কারন অনেক কোম্পানি ভাল অবস্থানে যেয়েও এই ছোট্ট ব্যাপার এর কারনে ফেইল করেছে। 

মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা 

চাপ সামলানো পয়েন্ট টা দেখে আপনার হাসি আসতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা এটা অনেক কঠিন একটা কাজ। যখন কোন স্টার্টআপ শুরু হয়, তখন থেকে প্রতিটাদিন উদ্যোক্তাকে প্রচুর চাপ বহন করতে হয়। এবং ওইসব চাপগুলো যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করার ক্ষমতা থাকতে হবে। অন্যথায় এটা আপনার স্টার্টআপ এর উপর প্রভাব পড়বে। যেটা নিশ্চয় ভালোদিক না। 

প্রোডাক্টিভ হওয়ার ক্ষমতা

এটা একটা বড় অধ্যায়। কারন এখানে সঠিক কোন পদ্ধতি নেই যেটার মাধ্যমে আপনি সবার জন্য কাজ করবেন। সুতরাং পড়ালেখা করুন, কিভাবে এনার্জিটিক সময়কে কাজে লাগানো হয়, কিভাবে রুটিন নিয়মিত ফলো করে চলতে পারবেন। প্রোডাক্টিভ টুলস দ্বারা আপনার প্ল্যান তৈরি করেন এবং সেটাকে সফল করার চেষ্টা চালানোর ক্ষমতা। মূল কথা, আপনার নিজের প্রোডাক্টিভিটি প্রথমে এরপর বাকীদের প্রোডাক্টিভিটির দিকে নজর দেওয়া।

উদ্যোক্তা বন্ধু তৈরি করার ক্ষমতা

 এই প্রসঙ্গে আসলে, জিম রহানের একটা উক্তি বেশ মনে পড়ে 

তোমার অধিকাংশ সময় ব্যয় কর উদ্যোক্তা বন্ধুর সাথে। কমপক্ষে ৫ জন উদ্যোক্তার সাথে তোমার সময়ের বেশিরভাগ সময় তাদের সাথে থাকার চেষ্টা কর।

 উদ্যোক্তা বন্ধু তৈরি করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যে উদ্যোক্তা বন্ধু আপনার বিপদের সময় আপনাকে মানসিক বা আর্থিকভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে পারে। তাছাড়া সেই একমাত্র বুঝতে পারবে যে, আপনি কি ধরনের সময় পার করতেছেন। সুতরাং উদ্যোক্তা বন্ধু তৈরি করার ক্ষমতা থাকাটাও এক ধরনের গুন। সেটা রিকুয়ারমেন্ট। 

শক্তি এবং দুর্বল পয়েন্ট ধরার ক্ষমতা 

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাকে যে সব দিকে পারফেক্ট হতে হবে, সেটা ঠিক না। কিন্তু এতটুকু বোঝার ক্ষমতা থাকা উচিৎ যে, কোথায় আপনার শক্তি এবং কোথায় আপনার দুর্বলতা রয়েছে। এতে করে আপনি মিটিং এর মাধ্যমে সেটা তুলে ধরতে পারবেন। যদি সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়, তবে সেটা করুন। আর যদি না হয় সেক্ষেত্রে কাউকে হায়ার করে সেই সমস্যা সমাধান করা। যার জন্য এতটুকু বোঝার ক্ষমতা একজন উদ্যোক্তার থাকা উচিৎ। 

কার্যকরী মানুষ হায়ার করার ক্ষমতা

 এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা স্কিল একজন উদ্যোক্তার।  কারন আপনার স্টার্টআপ অনেকটা এই পয়েন্ট এর উপর ভিত্তি করবে। আপনার টিমে কাকে রাখলে আপনার বেনিফিট হবে আর কাকে রাখলে বেনিফিট আসবে না, এটা আপনার খুজে বের করতে হবে। একজন উদ্যোক্তার যদি এই গুন না থাকে, তবে তার স্টার্টআপ শুরু পূর্বেই এই বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করা উচিৎ। একজন উদ্যোক্তা যদি এই যায়গাতে ভুল করে, তবে স্টার্টআপ এর চলার পথ আরও দিনের সাথে তাল মিলিয়ে সরু হতে থাকবে। 

নতুন স্টাফদের প্রশিক্ষন দেওয়ার ক্ষমতা 

যখন নতুন কাউকে হায়ার করা হয়, তখন উচিৎ তাকে ট্রেনআপ করা যে, কি করা উচিৎ আর কি করা উচিৎ না। এতে শুধুমাত্র যে আপনার কোম্পানি বেনিফিট হবে , সেটা নয়। এতে আপনার স্টাফের সাথে কমিটমেন্ট লেভেল ও তৈরি হয়। তাছাড়া এতে অফিসের পরিবেশ সুন্দর থাকে। সুতরাং তাকে সুন্দরভাবে ট্রেনআপ করাটা এক ধরনের গুন।

স্টাফদের পরিচালনা করার ক্ষমতা 

যদি আপনি সঠিক স্টাফদেরকে খুজে পান, তবে তার পরবর্তী স্টেপ আপনার স্টাফদেরকে পরিচালনা করা। এটা সবথেকে কঠিন কাজ। কারন এই পরিচালনার উপর ভিত্তি করে আপনার কোম্পানি ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে। যদি আপনি জানেন যে, কিভাবে পরিচালনা করতে হয়, তবে অনলাইনে প্রচুর গাইড আছে, সেগুলো দেখে পড়ালেখা করুন। কিভাবে তাদেরকে মোটিভেট করবেন, উৎসাহ দিবেন এবং তাদের নিজেদের স্কিল ডেভেলপ থেকে শুরু করে ব্যাক্তিগত সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবেন এগুলো নিয়ে পড়ালেখা করুন। এতে করে আপনার স্টাফদের সাথে আপনার ভাল সম্পর্ক একই সাথে আপনার কোম্পানি ডেভেলপ হতে থাকবে। সর্বদা টাকা দিয়ে সবকিছু আপনি কিনতে পারবেন না। আবার ঝাড়ি দিয়েও আপনি সেটা অর্জন করতে পারবেন না, যেটা আপনার সুন্দর পরিচালনাতে সহজেই পাবেন। 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে নেটওয়ার্ক তৈরি করার ক্ষমতা 

প্রত্যেকটা প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে আপনার জ্ঞান থাকা উচিৎ। যদি কিনা আপনি একজন আপনি সঠিকভাবে আপনার স্টাফদেরকে ম্যানেজ করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনাকে নেটওয়ার্কিং করার মত ক্ষমতা থাকতে হবে। তাছাড়া একটা নেটওয়ার্কে প্রচুর মানুষ থাকে, এক একজন এক দিক থেকে ভাল দক্ষতা থাকে। সেসব যায়গা থেকে শেখার চেষ্টা করতে হবে। এর পর সেগুলো নোটডাউন এর পর সঠিক বিষয়গুলোকে বাছাই করে সেটা প্রয়োগ করা। এর সাথে কোম্পানির সন্মানও জড়িয়ে পরে। সুতরাং নেটওয়ার্কিংটা গুরুত্বপূর্ণ। 

আমাদের অনেক উদ্যোক্তা আছে যারা, নিজেদেরকে অনেক হাম্বাড়া মনে করে। এবং নেটওয়ার্কিং গুলোতে যদিও বা যায়, তবে তারা চুপ করে বসে একটা নেতা ভাব নেওয়ার চেষ্টা করে। আর অন্যদেরকে তুচ্ছ ভাবার চেষ্টা করে। কথাগুলো তিক্ত। কিন্তু এটা বাস্তবতা। আমি ব্যাপারটা অনেকভাবে লক্ষ্য করেছি, তাই বলতে পারলাম। 

কাস্টমারদের প্রতি ফোকাস রাখার ক্ষমতা

এটা স্পষ্ট যে, কাস্টমার ছাড়া আপনার কোন বিজনেস নাই। সুতরাং আপনাকে এটা কনফার্ম হতে হবে যে, আপনার প্রোডাক্ট , সার্ভিসগুলো কাস্টমাররা  সুন্দরভাবে ডেলিভারি পাচ্ছে কি না। কারন আপনার ব্যবসা যেহেতু তাদের উপর ডিপেন্ড, সুতরাং তাদেরকে ভালো সার্ভিস দেওয়াটা আপনার গুরু দায়িত্ব। তাদের সাথে কমিউনিকেশন সহ সবকিছু যেন একটা প্রফেশনাল এপ্রোচে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা। প্রচুর বই লেখা আছে এই বিষয়ে, অনলাইনে সার্চ করলেই পাবেন। 

নতুন ট্রেন্ড এর সাথে চলার মত ক্ষমতা 

একটা ব্যবসা দ্রুত পরিবর্তন হয়। সুতরাং আপনাকে সেই ধরনের পরিবর্তনের সাথে চলার মত এবিলিটি থাকা প্রয়োজন। আর যদি টেকনোলোজি ভিত্তিক হয় আপনার ব্যবসা, তবে তো আর কোন কথায় নেই। আপনাকে প্রতিনিয়ত আপ টু ডেট থাকতে হবে। 

ব্যর্থতার ভার বহন করা ক্ষমতা

কোন ব্যবসাই এমন না যে, আপনি সাকসেস হবেন। যেকোনো মুহূর্তে আপনার ব্যবসা পড়ে যেতে পারে। কিন্তু সেটার ভার যদি বহন করার ক্ষমতা না থাকে, তবে আপনি রিকোভারি করতে পারবেন না। মাথায় রাখবেন, প্রত্যেকটা সফল ব্যাক্তিই ব্যর্থতার স্বাদ গ্রহন করেছে। শুধুমাত্র তাদের সেই ব্যাক করার ক্ষমতার বলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং এই চাপ বহন করার ক্ষমতা এবং সেটা রিকোভারি করার ক্ষমতা একজন উদ্যোক্তার থাকা বাঞ্ছনীয়।

গোল রিচ করার ক্ষমতা

শেষ এই পয়েন্টটি সম্পূর্ণ আপনার মটিভেশন, আপনার বিশ্বাস এবং আস্থার উপর ভিত্তি করে। যখন আপনি আপনার ব্যবসাতে ফোকাস করেছেন, মাথায় রাখবেন কিভাবে টপ উদ্যোক্তা হবেন। আর তার জন্য আপনাকে কি ধরনের পথ পাড়ি দিতে হবে।   

তো আজ এই পর্যন্ত। স্টার্টআপ এবং উদ্যোক্তা একটা বড় অধ্যায়। যেটা লিখে আসলে শেষ করা যায় না। তারপরও এই ছোট্ট মাথায় যতটুকু এক্সপেরিয়েন্স জমেছিল, সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করছি। যেহেতু প্রফেশনাল লেখক না, তাই হয়ত অনেক কথা গুছিয়ে লিখতে পারি না। এত বড় লেখাতে অনেক বানানের ভুল থাকতে পারে। সেগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। শুধু একটা কথা বলব লেখাটা শেষ করার পূর্বে 

একজন ব্যর্থ উদ্যোক্তা একজন সফল রাজনীতিবিদ থেকে উত্তম ।  তাই উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের নাম লেখাতে ভুলবেন না। উদ্যোক্তা স্বাদটা একটু অন্যরকম। যিনি উদ্যোক্তা একমাত্র তিনিই জানেন। 

চেষ্টা করব পরবর্তীতে একটা ভালো স্টার্টআপ দাড় করাতে হলে কি করা উচিৎ আর কি করা উচিৎ নয়। সাথে থাকুন। আর লেখাটা কতটুকু আপনার কাজে দিল, সেটা জানাতে ভুলবেন না। আপনাদের উৎসাহ আমাকে অনুপ্রেরনা যোগাবে। ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। 

 

Comments

comments