কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর [ খুবই সাধারন ]

ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং সেক্টর সম্পর্কে প্রতিনিয়ত মানুষ জানছে। আর এই সেক্টরে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুনরা। আর এতে সৃষ্টি হচ্ছে মুলত ২ টা সমস্যা। কিছু কমন প্রশ্ন নতুনরা ঘুরেফিরে বারবার করছে। আর এক্সপার্টদের সেই প্রশ্নের উত্তর বার বার দিতে হচ্ছে। যা একটা সময় বিরক্তির বিষয় হয়ে উঠছে। আর এতে অনেকে রাগ করে অথবা বিরক্ত হয়ে ভুল তথ্য দিয়ে ফেলে অথবা উত্তর দেয় না। আর তাতেই সমস্যা সৃষ্টি হয়। প্রতিনিয়ত আমার ইনবক্সে ২০-৩০ টি শুধু প্রশ্ন আসে কমন কিছু প্রশ্ন। যার উত্তর বার বার লিখতে হয়। আর যার জন্য আজকের লেখা।

প্রশ্নঃ আউটসোর্সিং কি ?

উত্তরঃ আউটসোর্সিং দুইটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। একটি হল “আউট” অপরটি “সোর্সিং”। অর্থাৎ  যখন কোন কাজ থার্ড পার্টির মাধ্যমে করিয়ে নেওয়া হয়, সাধারণত সেটাকেই আমরা আউটসোর্সিং  বলে থাকি। যেমনঃ অনেক ব্যস্ত কোম্পানি কিছু কাজ তার কোম্পানির বাইরে কাউকে দ্বারা কাজটি করিয়ে নেই তাকেই আউটসোর্সিং বলে।

প্রশ্নঃ ফ্রিল্যান্সিং কি?

উত্তরঃ লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন, এখানেও ২ টা শব্দ রয়েছে। একটি হল “ফ্রি” অপরটি “ল্যান্সিং”।অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং এর সম্পূর্ণ অর্থ মুক্ত পেশা। কোন ধরনের চাকুরি, অফিস ছাড়াই যে পদ্ধতিতে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করা যায়, ওই মাধ্যমকেই ফ্রিল্যান্সিং বলে।

প্রশ্নঃ আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কি ?

উত্তরঃ উপরের ২টি বর্ণনা থেকেই বুঝা যায় যে, আউটসোর্সিং হচ্ছে থার্ড পার্টি দ্বারা কিছু করিয়ে নেওয়া আর কোন বাধা ছাড়াই নিজের মনের মত যখন খুশি তখন অনলাইনে কাজ করে আয় করা টা ফ্রিল্যান্সিং। অনলাইন উল্লেখ করেছি এই কারনে যে, যেহেতু লেখার মূলবিষয়বস্তু অনলাইন থেকে  আয় করা নিয়ে। আউটসোর্সিং অথবা ফ্রিল্যান্সিং আরও অনেক কিছুর মাধ্যমে আয়ের উৎস হতে পারে।

প্রশ্নঃ আউটসোর্সিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং ? কোনটা বাছাই করব আমার জন্য ?

উত্তরঃ যদি আপনি নতুন হন,সেক্ষেত্রে আউটসোর্সিংকেই প্রথমে বেছে নিন। কারন আপনি চাইলে অতি সহজে কাজ শিখে আয় করতে পারবেন না। টানা ১৪-১৫ বছর পড়ালেখার পর আপনি একটা চাকুরি করেন ১০-১৫ হাজার টাকার বেতনে। আর প্রতি মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা ইনকাম করতে চাচ্ছেন, কিন্তু পরিশ্রম দিবেন না , সেটা তো হতে পারেনা। সুতরাং আউটসোর্সিং অবস্থাতে থাকুন প্রাথমিক দিকে। এরপর যখন আপনি অনলাইন থেকে ভালো ফিডব্যাক পাওয়া শুরু করছেন তখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। আমি এখানে আউটসোর্সিং টা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে গেছি। আমি থার্ড পার্টিকে আপনার সাথে তুলনা করার লক্ষে। এটাকে সাব কন্ট্রাক্টিং ও বলা হয়ে থাকে। প্রেক্ষাপটে যেমন অনেক কিছুর রঙ বদলায় ঠিক তেমনি আউটসোর্সিং শব্দটি আমরা ব্যবহার করি যখন সে চাকুরিরত অবস্থায় অন্য কাজ করে ।

প্রশ্নঃ আউটসোর্সিংবা ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কাজ শিখতে হলে আমাকে প্রথমে কি করা উচিৎ ?

উত্তরঃ আউটসোর্সিংবা ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখতে হলে প্রথমে আপনাকে জানা প্রয়োজন এই সেক্টরে আসলে কোন ধরনের কাজগুলা করা হয়।

প্রশ্নঃ এই সেক্টরে কি কাজ করা হয় ?

উত্তরঃ কম্পিউটারে করা যায় এমন যেকোনো কাজ জানলে সেটা দিয়ে আপনি ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংকরতে পারেন। সেটা ডাটা এন্ট্রি থেকে শুরু করে সফটওয়্যার তৈরির কাজ পর্যন্ত হতে পারে।

প্রশ্নঃ আমি তো নতুন, সেক্ষেত্রে আমার কি ধরনের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন ?

উত্তরঃ কম্পিউটার চালানো মোটামুটি ভালোভাবে জানতে হবে। ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে। অবশ্যই গুগল এবং ইউটিউবে সার্চ করার যোগ্যতা থাকতে হবে।

প্রশ্নঃ আমি এই সেক্টরের কোনটি তে স্কিল তৈরি করব ?

উত্তরঃ ক্যারিয়ার বিল্ড করার ক্ষেত্রে একটা জিনিস মাথায় রাখা উচিৎ, আমি যে কাজটিতে নিজের ক্যারিয়ার বিল্ড করব সেটা এমন  যেন না হয়, খুবই কম মানুষ তার সম্পর্কে জানে । এখন যদি চিন্তা করেন আপনি সফটওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করবেন, এখন এটা শিখবেন। আপনি চাইলেই একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আপনার হাতের কাছে পাবেন না। আর সফটওয়্যার তৈরি করা শেখা অনেক কঠিন ব্যাপার। অর্থাৎ আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং করতে চান তবে আপনি একটা সময় ধৈর্য হারিয়ে সেক্টর থেকে হারিয়ে যাবেন। তাই বাছাই করতে হবে এমন একটি সাবজেক্ট যা সম্পর্কে অনেক মানুষ জানে, ভবিষ্যৎ ভালো এবং আপনার জন্য প্রোফিটেবল।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে এই সেক্টরে কাজ করে বেশি কোন বিষয়গুলোর উপর ?

উত্তরঃ বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং সেক্টরে সবথেকে বেশি কাজ করছে ইন্টারনেট মার্কেটিং, এসইও, এসএমএম, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন,ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট, জুমলা, কনটেন্ট রাইটিং, অ্যানিমেশন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সহ আরও অনেক কাজ। তবে উল্লেখিত নামগুলো বাংলাদেশে অনেক বেশি পরিচিতি।

প্রশ্নঃ আমি যদি উপরের উল্লেখিত বিষয়গুলো শিখি তাহলে কি আমি ক্যারিয়ার গড়তে পারব ?

উত্তরঃ অবশ্যই। আপনি যদি উপরের উল্লেখিত কাজগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি বিষয়ের উপর দক্ষ হতে পারেন তবে আপনার জন্য উজ্জ্বল ক্যারিয়ার অপেক্ষা করছে।

প্রশ্নঃ উপরোক্ত বিষয়গুলো কাজ আমি কিভাবে করব ?

উত্তরঃ বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেখান থেকে আপনি প্রচুর পরিমান কাজের অফার পাবেন । যেমনঃ অডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার,ইল্যান্স ইত্যাদি সহ বড় বড় অনেক মার্কেটপ্লেস আছে। যেখানে প্রচুর কাজ রয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার হচ্ছে, কাজ শেখার পর আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে, কোথায় গেলে আমি কাজ পাব। কিভাবে কাজ করলে আমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে।

প্রশ্নঃ আমি কোথায় শিখব ?

উত্তরঃ গুগল এবংইউটিউব পৃথিবীর সবথেকে বড় ইউনিভার্সিটি। যেখানে সার্চ করলে এমন কিছু নাই যে পাবেন না। তাছাড়া আপনি বাংলা যেসব ব্লগ রয়েছে সেখান থেকে শিখতে পারেন। সাথে তাদের টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন। এটা আপনাকে নিজে নিজে শিখতে হবে। আর যদি মনে করেন গাইডলাইন প্রয়োজন সেক্ষেত্রে আপনি যেকোনো একজন এক্সপার্ট অথবা ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন বিষয়ের উপর ট্রেনিং প্রদান করে সেই ধরনের কোন ইন্সটিটিউটে যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রশ্নঃ প্রাথমিক দিকে আমার কি করা উচিৎ শেখার জন্য ?

উত্তরঃ প্রাথমিক দিকে প্রত্যেকটা বিষয়ের উপর ধারনা নেওয়া উচিৎ। উপরের যে পয়েন্টগুলো আমি দিয়েছি, সেগুলো নিয়ে এখন আপনাকে গুগল সার্চ করে এর সত্যতা যাচাই করা উচিৎ। এরপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন বিষয়ের উপর শিখবেন।

প্রশ্নঃ আমি সবকিছু গুলিয়ে ফেলছি, নতুন হিসেবে আমার বুঝতে কষ্ট হচ্ছে। কারোর সাহায্য প্রয়োজন, কি করব ?

উত্তরঃ আপনাকে নিয়ে বিজনেস করবে না অর্থাৎ সঠিক একটা গাইডলাইন আপনাকে দিতে পারবে, এমন কাউকে খুজে বের করুন। যে এই ফিল্ডে ভালো কাজ করছে, প্রয়োজনে তার সাথে আপনি সরাসরি কথা বলুন। আর যদি পরিবারের  ভিতর কেউ ফ্রিল্যান্সিং করে, তবে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিন। এভাবে  ৩-৪ জনের কাছ থেকে পরামর্শ নিন। এরপর তাদের কথা শুনে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। যেটা আপনার কাছে সঠিক মনে হবে।

প্রশ্নঃ আমি কার কাছে যাবে, আসলে বুঝে উঠতে পারছি না।

উত্তরঃ যদি নিতান্তই আপনি কাউকে না খুজে পান। সেক্ষেত্রে আপনি ওয়েবকোড ইন্সটিটিউটের আমিনুর রহমান ভাইয়ের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন। কারন ভালো কনসালটেন্সি যদি পেতে চান, তবে তার থেকে বেস্ট আর আমার চোখে কাউকে দেখে নি (আরও অনেকে থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে কমেন্টে সাজেশন দিন, অ্যাড করে দিব ।) কারন নতুন যে কারোর জন্য কনসালটেন্সি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্নঃ ইন্সটিটিউটে প্রবেশ করানোর জন্য আমাকে ভুলভাল বুঝিয়ে দিবে না তো ? :o

উত্তরঃ ওয়েবকোড ইন্সটিটিউটে  গেলে আপনার ধারনার সাথে মিলিয়ে নিতে পারবেন । কারন সেখানে অনেক রিকুয়ারমেন্ট না থাকলে ভর্তি নেয় না। আর ওয়েবকোড ইন্সটিউট বিজনেস করতে এসেছে ঠিকই কিন্তু কারোর ক্যারিয়ার নষ্ট করতে আসে নি। আমার চোখে যতদূর দেখতে পেয়েছি, সেখান থেকেই এতকিছু শেয়ার করলাম।

প্রশ্নঃ আপনি কেন ওয়েব কোডের প্রশংসা করছেন?

উত্তরঃ কারন ওয়েবকোড ইন্সটিটিউটের একজন মেন্টর আমি। সেই হিসেবে গর্ব করে বলতে পারি, ওয়েবকোড সত্যিই নতুনদের জন্য কিছু করছে। সুতরাং আমার কাছ থেকে ভালো কিছু না হোক, খারাপ কিছু আশা করি আপনি পাবেন না। আপনার যেকোনো অভিযোগ ওয়েবকোড সাদরে গ্রহন করবে।

প্রশ্নঃ ওয়েবকোড নিয়ে এত কথা কেন বললেন ?

উত্তরঃ যেহেতু একটা ইন্সটিটিউটের সাথে আমি লাইফে জড়িত হয়েছি সেটা ওয়েবকোড। আর যার জন্য আমার খুব কাছ থেকে দেখতে পায় তাদের কার্যক্রম। এই জন্য আপনাকে সাজেশন দিয়েছি  করেছি।  শুধু নতুনদের উপকারের জন্য সাজেশন করা। যদি ওয়েবকোড থেকে বেস্ট অন্য কিছু মনে হয় তবে সেক্ষেত্রে আপনি কমেন্টে জানান। তবে এর মানে এই না যে, বাংলাদেশে আর কোন ভালো ট্রেনিং সেন্টার নেই। অনেক ভালো ভালো ট্রেনিং ইন্সটিউটিউট রয়েছে। কিন্তু তাদের সাথে কার্যক্রম এর সাথে আমার উঠা – বসা কম। যার জন্য এই ব্যাপারে আমি সঠিক তথ্য দিতে পারছি না। কমেন্ট এর মাধ্যমে জানান আপনার দেখা সেরা কন্সাল্টেন্সি ইন্সটিউটিউটের এর কথা। আমি নিচে লিস্ট করে দিয়ে দিব।

প্রশ্নঃ আমি নিজে নিজে শিখলে কতদিন লাগতে পারে ?

উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে আপনার উপর। কারন আপনার পরিশ্রম এবং মেধা শক্তির উপরভিত্তি করে। আপনি যত বেশি সময় ব্যয় করবেন শেখার জন্য তত দ্রুত শিখতে পারবেন। আপনার মেধাকে অনেক বেশি কাজে লাগাতে হবে। আপনি যত দ্রুত বিষয়গুলো ধরতে পারবেন, তত দ্রুত অগ্রসর হবেন।

প্রশ্নঃ ইন্সটিউটিউটে শেখা আর নিজে শেখার মধ্যে পার্থক্য কি ?

উত্তরঃ আপনি নিজে নিজে শিখলে সেটা তে অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন। সেই যায়গা তে যদি আপনি একজন এক্সপার্ট এর হাতের নাগালে থাকেন, তবে সময় যেমন সংক্ষিপ্ত হয় ঠিক তেমনি আপনার শেখাটা পাকাপোক্ত হয়। কারন ওই এক্সপার্ট সমস্ত সমস্যা, সাকসেস একত্র করে একটাস্থানে এসে পৌঁছায়। সুতরাং পারফেক্টভাবে যে কিছু শিখতে পারবেন সেটার কোন ভুল নেই। এর মানে আমি এই না যে, আমি বলতে চাচ্ছি ইন্সটিউটিউট বেস্ট শেখার জন্য। নিজে শিখাটা অবশ্যই বেস্ট। এতে ভুলগুলো ধরে এবং সেগুলো রিকভারি নিজে করলে এক্সপেরিএন্স আরও বাড়বে। কিন্তু সেটাতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। যদি আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে অবশ্যই আমার সাজেশন থাকবে গুগল এবং ইউটিউবের সাহায্য নিয়ে সেটা প্রাক্টিকালি কাজ করা।

প্রশ্নঃ কাজ শেখার পর ইনকাম কতদিনে আসবে ?

উত্তরঃ এই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। কারন এটি নির্ভর করছে আপনার কাজের স্কিল এবং কমিউনিকেশন স্কিলের উপর। যদি আপনি মার্কেটপ্লেস থেকে কাজ না পান তবে ধরে নিবেন আপনার কোথাও সমস্যা আছে। খুজে বের করে সেইসব ল্যাকিংস গুলো দূর করেন।

প্রশ্নঃ মার্কেটপ্লেস ছাড়া কি আর কোন ইনকামের পথ নেই ?

উত্তরঃ অবশ্যই আছে। মার্কেটপ্লেস কখনও আপনার ক্যারিয়ার হতে পারে না। বেশিরভাগ এক্সপার্টরা সাধারণত মার্কেটপ্লেস থেকে মুভ করে নিজের জন্য কাজ করেন। তিনি একটা নির্দিষ্ট সময়ের কাজের জন্য যে পেমেন্ট টা নিতেন সেটার মায়া ত্যাগ করে নিজের জন্য কিছু করেন। যেটা তার ক্যারিয়ার এর বিশাল একটা টার্নিং পয়েন্ট হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ মার্কেটপ্লেসগুলোতে অ্যাকাউন্ট করার পর প্রোফাইল কমপ্লিট করতে হয়, সেই সাথে পরিক্ষা দিতে হয়, এক্ষেত্রে কি করতে পারি ?

উত্তরঃ এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন জাকির হোসেন ভাই-

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করার জন্য নূন্যতম কিছু যোগ্যতা লাগে। এসব যোগ্যতার একটা হচ্ছে নিজের প্রোফাইল সাজনো বা কমপ্লিট করা। এক একটা ধাপ কমপ্লিট করলে নির্দিষ্ট পরিমান সম্পুর্ণ হয়। যেমন ..৫০%…৮০%… সম্পুর্ণ কমপ্লিট হলে ১০০% . যদিও ১০০% কমপ্লিট হওয়ার পর ও আরো কিছু করার থাকে।

কিন্তু যারা ১০০% কমপ্লিট করতে পারে না, যাদের নূন্যতম যোগ্যতা নেই, তারা কিভাবে মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করবে? মার্কেটপ্লেস গুলোতে এই ১০০% কমপ্লিট করার জন্য দুই একটা এক্সাম দিতে হয়। আপনি কোন বিভাগে কাজ করবেন, তার উপর। ব্যাসিক জ্ঞানের পরীক্ষা। এখন যদি পরীক্ষা দিতে না পারেন, তাহলে তো আগে আপনার বিষয়টি শিখে নেওয়া উচিত।

যারা ফ্রিল্যান্সিং করে, তাদেরকে নিজের প্রোফাইল কমপ্লিট করে দেওয়া জিজ্ঞেস করা কেমন উদ্ভট না? আপনাকেই কাজ করতে হবে, আপনি কাজ পেলে অন্য কেউ করে দিবে না। আর অন্য কেউ করে দিলেও আপনি আপনার ক্লায়েন্টকে ঠিক মত স্যাটিসফাই করতে পারবেন না। আপনার ক্যারিয়ারেরই ক্ষতি হবে। তাই দরকার নিজে নিজে ঘেটে ঘেটে এসব জিনিস শিখে নেওয়া।

কিভাবে এক্সাম দিতে হয়, কিভাবে এক্সামে ভালো করা যায়, আপনি একটা কিছু বুঝতে পারছেন না, তা সম্পর্কে বুঝার জন্য কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। কোন একটা সমস্যায় পড়লে তা কিভাবে সলভ করা যায়, তার পরামর্শ নিতে পারেন। প্রথম প্রথম সবারই সমস্যা হতো। তাই জিজ্ঞেস করা খারাপ কিছু না। খারাপ কিছু হচ্ছে নিজের প্রোফাইল কমপ্লিট করার জন্য কাউকে রিকোয়েস্ট করা, নিজের এক্সাম কাউকে দিয়ে দিতে বলা।

কাউকে ছোট করে লেখার উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে জানানো। উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা বলা যে, কোন কিছু না পারলে শিখে নিন। কোথায় থেকে শিখবেন তা না বুঝলে কাউকে জিজ্ঞেস করুন। আপনাকে রিসোর্স দিয়ে সবাই হেল্প করবে। কিন্তু কেউ আপনার কাজটি করে দিবে না। এতে আপনার নিজেরই ক্ষতি হবে।নতুন যারা আগ্রহী, শিখতে থাকুন। একটু সময় ব্যয় করুন। কিছু না হলে বার বার একই জিনিস নিয়ে পড়ে থাকুন। হবেই হবে…

আপাতত এই প্রশ্নগুলো খুজে পেলাম। আরও অনেক প্রশ্ন আছে , যেগুলো হয়ত এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই। যদি এই লেখাটি আরও ভালভাবে সমৃদ্ধ করতে হয়, তবে সেক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনার কাছে যদি নতুন কোন প্রশ্ন থাকে, তবে কমেন্ট করুন অথবা আমাকে মেইল (me@tafserahmed.com) করতে পারেন । এবং একই সাথে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন। যাতে করে নতুনরা একটা সঠিক গাইডলাইন নিয়ে এই সেক্টরে প্রবেশ করতে পারে।

নতুনরা যদি আপনার কাছে সাহায্য চাই, সেক্ষেত্রে তাদেরকে এই লেখাটি রেফারেন্স হিসেবে দিন। আশা করি এবার আমার এবং আপনার সহ সবার কষ্টটা কমে আসবে। সেই সাথে এই লেখাটি আরও সমৃদ্ধ করা হবে। বিভিন্ন ধরনের রেফারেন্স লিঙ্ক দিয়ে। যেটা নতুনদের জন্য কাজে আসে। আর সেইজন্য এই লেখাটি বুকমার্ক করে রাখুন। এই লেখাটি প্রতিনিয়ত আপডেট হবে।

সবার সুস্থ কামনা করছি। সাথে থাকুন। হ্যাপি ফ্রিল্যান্সিং। :)

Comments

comments

Leave a Comment