গেরিলা প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক গাইডলাইন

প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক কি আসলে এটা যদি জানতে আমার পোস্ট পড়তে আসেন, তাহলে হয়ত একটু ইতস্তবোধ করবেন। তারপরও শুরু তে লেখার একটা মান রক্ষাতে বলি, প্রাইভেট ব্লগিং একটি লিঙ্কবিল্ডিং  পদ্ধতি । এর মানে এই না যে, এখান থেকে আপনি লিঙ্ক সেল করতে পারবেন। প্রাইভেট ব্লগিং মানে হচ্ছে একদম আপনার ব্যাক্তিগত।

অনেকে প্রাইভেট ব্লগিং সম্পর্কে জানেন, কিন্তু এটার সঠিক কোন দিক নির্দেশনা পাচ্ছেন না, তার জন্য মূলত এটা লেখা। মনে রাখবেন, এটা একটা পদ্ধতি, যা আপনাকে র‍্যাঙ্ক করতে ২০০% পরিমান সাহায্য করতে পারবে, আবার গুগল থেকে আজীবন এর জন্য পেনাল্টি দিতে পারে। তাই এটার যদি সঠিক কোন পদ্ধতি আপনার জানা না থাকে, তবে প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে কোন একজন এক্সপার্ট এর সহায়তা নিন।

কথা বাড়াব না। কারন প্রচুর কথা সামনে পড়ে আছে। সোজা কাজের মধ্যে প্রবেশ করব। কিন্তু তার আগে একটি কথা, হাতে যদি কমপক্ষে ৩০ মিনিট অথবা তার অধিক অপেক্ষা করে পড়ার সময় না থাকে তবে পড়ুন অথবা বুকমার্ক করে রাখুন।

ডোমেইন ক্রয় করাঃ

প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্কিং এর সবথেকে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এটি। পিবিএন তৈরি করার জন্য সর্বদা আমরা বাছাই করি পুরনো কোন ডোমেইন নেম। যে ডোমেইনটার বয়স আছে, গুগলে ভালো রেপুটেশন আছে। যার মানে হচ্ছে কোন ধরনের স্প্যাম লিঙ্ক এডাল্ট বা গেমিং ডোমেইন নেম না। ডোমেইনে  কোন ধরনের খুত আছে এমন ডোমেইন বাছাই করা থেকে বিরত থাকাটাই উত্তম।

[sociallocker]

কিভাবে ডোমেইন খুজবেনঃ

আমি ডোমেইন খোজার জন্য কয়েকটি সাইট ব্যবহার করি। যেগুলো এক্সপায়ার, এক্সপায়আরিং এবং ওকশন ডোমেইন খুজতে সাহায্য করে।

এক্সপায়ারড ডোমেইনঃ

আমি এক্সপায়ারড ডোমেইন ব্যবহার করি, কারন এটা ফ্রী তে অসাধারন তথ্য দিতে সাহায্য করে। সার্চ এবং ফিল্টার সিস্টেমটা অত্যান্ত পাওয়ারফুল। ডোমেইন খোজার জন্য অনেকগুলো অপশন আছে । যেমনঃ গোডাডি ওকশন, ফ্রী রেজিস্ট্রেশন, মজ ডোমেইন অথোরিটি, মেজিস্টিক ট্রাস্ট ফ্লো সহ আর অনেক কিছু।

ফিল্টার করবেন যেভাবেঃ

  • কমন ফিল্টার
  • এডিশনাল ফিল্টার
  • অ্যাডওয়ার্ডস ফিল্টার

কমন ফিল্টারঃ কমন ফিল্টার আপনাকে ডোমেইন লেন্থ, পেজর‍্যাঙ্ক, হাইপেন অথবা হাইপেন ছাড়া ইত্যাদি এগুলো ফিল্টার করতে সাহায্য করবে।

ExpiredDomains-Common-Filter

এখানে এই স্ক্রিনশর্টে দেখতে পারবেন যে ফেক পেজ র‍্যাঙ্ক চেক করার একটা অপশন দেওয়া আছে, আপনি যদি অপশনটি ব্যবহার করতে যান, তবে আপনাকে পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। যদি আপনি তাদের পেইড সার্ভিস ব্যবহার না করতে চান তবে এখান থেকে ফ্রী ফেক পেজ র‍্যাঙ্ক চেকার টুল ব্যবহার করে আপনি ফিল্টার করতে পারবেন।

এডিশনাল ফিল্টারঃ এডিশনাল ফিল্টারে সাধারনত আমি “Only available Domains” এই অপশনটা ব্যবহার করি।

ExpiredDomains-Additional-Filter

 

যদি আপনি এটা ফিল্টার না করেন, তবে আপনি সেল হয়ে যাওয়া বা ক্লোজ হয়ে যাওয়া ডোমেইনগুলো শো করবে। তাছারা এখান থেকে আপনি চাইলে .Com/.Net/.Org ইত্যাদি স্পেসিফিকভাবে চান, সেটাও পাবেন। তবে সাধারণত প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক করার জন্য এই ফিল্টার এর প্রয়োজন হয় না।

অ্যাডওয়ার্ডস বা এসইও ফিল্টারঃ এই অপশন এক্সপায়ারড ডোমেইন এওবথেকে পাওয়ারফুল ফিল্টারিং সিস্টেম।

ExpiredDomains-AdWords-SEO-Filter

এটা থেকে আপনি মেজিস্টিক এসইও এর ট্রাস্ট ফ্লো এবং মোজ এর ডোমেইন বা পেজ অথোরিটি ফিল্টার করতে পারবেন। যদি কি-ওয়ার্ড বেজ, এক্স্যাক্ট কি-ওয়ার্ড অথবা সিমিলার কি- ওয়ার্ড বেজ ডোমেইন আপনি ফিল্টার করে বের করতে পারবেন।

তাছাড়া আপনি মিনিমাম এবং ম্যক্সিমাম সিপিসি সিলেক্ট করে প্রোফিটেবল ডোমেইন খুজে বের করতে পারবে। সুতরাং যদি আপনার ফিল্টার সিস্টেম ভালো হয়, তবে ডোমেইন খুব সহজের খুজে বের করতে পারবেন, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

রেজিস্টার কম্পাসঃ 

রেজিস্টার কম্পাস একটি প্রিমিয়াম টুলস । রেজিস্টার কম্পাস যদি ব্যবহার করেন, তবে এদের সার্চ ফিল্টার অপশন থেকে আপনি একটা ডোমেইন যত ধরনের হাইড অপশন আছে, সবকিছু ফিল্টার করতে পারবেন।

RegisterCompass-Search-Options

একটা উদাহরন, আমি DOG রিলেটেড ডোমেইন খুজতেছি কি-ওয়ার্ড দিয়ে। টিএলডি ডোমেইন ( টপ লেবেল ডোমেইন)। যেটার মোজ অথোরিটি ৫০ এর উপরে। সার্চ করার যে রেজাল্ট আসলো সেটার স্ক্রিনশর্ট এখানেঃ

RegisterCompass-Search-Results-Count

এখানে সর্বমোট ১৫৯ টি ডোমেইন আছে। এখান থেকে আমি ৫৩ টি এক্সপায়ার ডোমেইন ফাইল টি ডাউনলোড করেছি। আমি যখন প্রথম ডোমেইনটি রেজিস্টার করার পূর্বে ওপেন সাইট এক্সপ্লোরারে সার্চ করলাম যে রেজাল্ট আসছে সেটার একটা স্ক্রিনশর্ট তুলে ধরলাম। দেখলেই বুঝতে পারবেন যে, কতটা রিলেভেন্ট।

Moz-Domain-Results

সুপার রিলেটেড একটি ডোমেইন । ডোমেইন অথোরিটি ২০ এবং পেজ অথোরিটি ৩৩। এবং রুট ডোমেইন থেকে ৬৭ টি ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করা আছে। এঙ্কোর চেক করার পর অনায়াসে এই ডোমেইনটি পারফেক্ট।

সুতরানং আর কোন চিন্তা না করেই এবার ডোমেইনটি ক্রয় করা যায়।

মুন্সী ডট কমঃ

মুন্সী ডট কম একটি অসাধারন ফ্রী টুলস। কোন ডোমেইন এখন এক্সপায়ার হতে যাচ্ছে, সেটা এখান থেকে খুব সহজেই বের করা যায়।

Moonsy

এবং তারা প্রতি মিনিটের আপডেট রাখে। সুতরাং এখান থেকে আপনি খুব সহজেই ২৪ ঘন্টার মধ্যে এক্সপায়আর হয়ে যাবে, এমন ডোমেইন খুজে বের করতে পারবেন।

মুন্সির যেসব ফিচারের কারনে আমার কাছে খুবই ভালো লাগার একটি ডোমেইন সাইট।

  • বর্তমান মূল্য
  • #বিড সংখ্যা
  • গুগল পেজ র‍্যাঙ্ক
  • মোজ ডিএ
  • বয়স
  • মোজ ব্যাকলিঙ্কস
  • লিঙ্কিং সাইট সমুহ
  • .EDU/.GOV ব্যাকলিঙ্ক সমুহ
  • ডাইরেক্টরি লিস্টেড
  • অ্যাডওয়ার্ডস সিপিসি
  • অ্যাডওয়ার্ডস সার্চ ভলিউম
  • এলেক্সা র‍্যাঙ্ক

তাছাড়া আপনি ওয়ে ব্যাক মেশিন অর্থাৎ Archive.org থেকে ডোমেইন এর হিস্টোরি দেখতে পারেন। এবং গুগলে ইন্ডেক্স আছে কিনা সেটাও চেক করে নিতে পারবেন।

সঠিক ডোমেইন নাম বাছাই করবেন যেভাবেঃ

সর্ব প্রথম বলে রাখি, পেজ র‍্যাঙ্ক ব্যাপারটা বর্তমানে ভুলে যেতে হবে। হয়ত গুগলে সামনে আর কখনও এটা আপডেট করবে না। তবে তারা ইন্টারনালি পেজ র‍্যাঙ্ক আপডেট করে, তাদের এলগোরিদমে সাইট এর সঠিক অবস্থান নির্নয় করার জন্য।

আপনি খুজলে অনেক পেজ র‍্যাঙ্ক ৫ ডোমেইন এইসব যায়গাগুলোতে পাবেন। কিন্তু সেটা আপনার কোন না দিতে পারে। এর থেকে যদি আপনি চেক করেন যে, ডোমেইন এর কি পরিমান ব্যাকলিঙ্ক আছে সেটা আপনার জন্য কয়েকশগুন সঠিক নির্বাচন হবে।

ভালো ডোমেইন তৈরি করবেন যেভাবেঃ

অথোরিটি এবং রিলেভেন্সিঃ যদি একটা ডোমেইন কোন অথোরিটি এবং রিলেভেন্ট সাইট থেকে ব্যাকলিঙ্ক পাই, তবে সেটা সোনার হরিনের মত কাজ করবে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে। গুগল সর্বদা এই ধরনের লিঙ্ক কে ভালোবাসে। ট্রাস্টেড সাইট থেকে লিঙ্ক পাওয়া টা অনেক কিছুই আপনার স্ট্রাটেজি পরিবর্তন করে দেই। আপনার ১ বছরের প্ল্যানকে ৬ মাসেই টার থেকে বেশি পুরন করে দেই।

সুতরাং রিলেভেন্ট ডোমেইন কিনুন। কিভাবে রিলেভেন্ট এবং অথোরিটি সাইট হিসেবে আপনার ডোমেইনকে দাড় করাবেন সেটার কিছু শর্ট টিপসঃ

  • সর্বদা মাথায় রাখবেন ব্র্যান্ডিং করতেছেন আপনি। সেই অনুসারে টাইটেল দিবেন।
  • নিশ রিলেটেড সমস্ত মেটা ট্যাগ অপটিমাইজ করবেন।
  • পোস্ট , ইমেজ এবং ভিডিও পাবলিশ করবেন, অবশ্যই সবকিছু রিলেভেন্ট

ব্যাকলিঙ্কসঃ এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা স্টেপ। আপনি অনেক হাজার হাজার ব্যাকলিঙ্ক ডোমেইন খুজে পাবেন। কিন্তু দেখে নিতে হবে, সেগুলো স্প্যামি ব্যাকলিঙ্ক কিনা। এঙ্কর টেক্সট এর এর মধ্যে কতটুকু পার্থক্য সেটা খেয়াল রাখাও জরুরী। অনেক সময় দেখা যাবে, অন্য ভাষা ব্যবহার হয়েছে এঙ্কর টেক্সট মধ্যে, সর্বদা ওই ধরনের ডোমেইন নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

Signature-png

ডোমেইন নেওয়ার সময় আমি বেশ কিছু স্টেপ ফলো করি। যার মধ্যে ব্যাকলিঙ্ক স্টেপ অন্যতম। এই ব্যাকলিঙ্ক এর ব্যাপারগুলো খুঁটিয়ে নেওয়ার জন্য আর কিছু জিনিস স্টেপ আমি নেই। যেমনঃ

  • ওপেন সাইট এক্সপ্লোরারঃ ওপেন সাইট এক্সপ্লোরার থেকে পেজ অথোরিটি (পিএ), ডোমেইন অথোরিটি (ডিএ), কমপক্ষে ২০ না হলে সেটা থেকে বিরত থাকি। সেই সাথে কতগুলো যায়গা থেকে সে ব্যাকলিঙ্ক পেয়েছে এবং সেগুলো অভার অপটিমাইজ কিনা এবং স্প্যাম স্কোর কত এগুলো ফলো করি।
  • মেজিস্টিক এসইওঃ মেজিস্টিক এসইও তে সাধারণত ট্রাস্ট ফ্লো (টিএফ) এবং সিটিয়েশন ফ্লো (সিএফ) ন্যূনতম ১৫ ছাড়া বাছাই করা থেকে বিরত থাকি। এবং কতগুলো আইপি থেকে আসলে সে পেয়েছে এবং কত ব্যাকলিঙ্ক পেয়েছে সেটাও দেখে নিই। কারন মেজিস্টিক এবং মোজ তাদের আলাদা আলদা এলগোরিদম এবং বোট ব্যবহার করে। সুতরাং ২ যায়গা থেকে ভিন্ন ভিন্ন রেজাল্ট পাওয়া যায়।
  •  এহেরিফসঃ এহেরিফ সাধারণত একটা সাইট এর সম্পূর্ণ ব্যাকলিঙ্ক প্রোফাইল, এঙ্কর বনাম র‍্যাঙ্ক, রেগুলার ভিজিটর ফ্লো, পুরনো ব্যাকলিঙ্ক এবং নতুন ব্যাকলিঙ্ক, এবং ব্যাকলিঙ্ক পয়েন্ট গুলো ব্যবহার করতে সাহায্য করে। সুতরাং অনায়াসে যে কেউ ডোমেইন এর ব্যাকলিঙ্ক ইতিহাস খুব ভালো ভাবে রিসার্চ করতে পারে।
  • ডোমেইন এর ইতিহাসঃ ওয়েব্যাক মেশিনের মাধ্যমে ডোমেইন এর পেছনের ইতিহাস বের করা যায়। কেমন ছিল আসলে ডোমেইন টি, কি হত সেখানে এটার স্নাপ সেখানে পাওয়া যায়। তাই অন্য কোথাও যদি ভুল তথ্য দেই, এখানে সেটার সঠিক তথ্য দিয়ে দিবে।

ভালো ডোমেইন এর জন্য কত টাকা ব্যয় করবেনঃ

এটা আসলে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ধরনের মতামত দিবে একটা ভালো ডোমেইন কেনার ক্ষেত্রে। পেজ র‍্যাঙ্ক মারা যাওয়ার পর থেকে আসলে সঠিক বক্তব্য দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সত্য যদি বলি। এটা আসলে নির্ভর করে মার্কেট সেলার এবং বায়ার উপর। আমি যখন একটা প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক করি, তখন কিছু সার্ভিস কিনে নেই।

একটা উদাহরন দিলে আশা করি বুঝতে পারবেন। আমি একটা ফোরাম মেম্বার থেকে ৩০০ ডলার দিয়ে ১০ টা ডোমেইন কিনি। অর্থাৎ প্রতিটা ডোমেইন এর মূল্য ৩০ ডলার। এর মধ্যে ৩ টা ছিল পেজ র‍্যাঙ্ক ৪, ৩ টা পেজ র‍্যাঙ্ক ৩, ১ টা পেজ র‍্যাঙ্ক ২,  ১ টা পেজ র‍্যাঙ্ক ১ এবং বাকি ২ টা পেজ র‍্যাঙ্ক পেজ র‍্যাঙ্ক ০। কিন্তু তাদের প্রত্যেকটি ডোমেইন এর জন্য সত্যি অসাধারন ব্যাকলিঙ্ক প্রোফাইল ছিল। এবং যেগুলো এখনও আমি ব্যবহার করছি।

ডোমেইন এর মোজ অথোরিটি ছিল ২০ থেকে ৪০। সুতরাং আমি যে মূল্য দিয়ে কিনেলাছিলাম সেই মূল্য অনুযায়ী আমার কেনাটা ছিল একদম পারফেক্ট।

যদি আপনি ডোমেইন এবং পেজ অথোরিটি ৩০ এর উপরে, পেজ র‍্যাঙ্ক ৩ ক্লিন লিঙ্ক প্রোফাইল থাকে তবে আপনি $১৫০- $৪০০ ডলার পর্যন্ত কিনতে পারেন। নির্ভর করে ব্যাকলিঙ্ক প্রোফাইল এর উপর।

রেজিস্ট্রেশন এবং রেজিস্টারঃ

প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্ক করারর জন্য এটি একটু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ডোমেইন কেনার ক্ষেত্রে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন যায়গা থেকে ডোমেইন কিনতে হবে। কারনটা আমরা খুব ভালোভাবেই জানি, যেন সার্চ ইঞ্জিন আমাদেরকে কোনভাবেই ট্র্যাক না করতে পারে।  সর্বদা মাথায় রাখতে হবে, যেন কোন ধরনের ফুটপ্রিন্টস না থাকে। যদি সার্চ ইঞ্জিন আপনার ফুটপ্রিন্টস ট্র্যাক করতে পারে, তবে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন থেকে কিক করবে। যেটা আপনার সমস্ত কস্ট এবং টাকা কে বৃথা হিসেবে ঘোষণা করবে।

ডোমেইন কেনার ক্ষেত্রে ফেক রেজিস্ট্রেশন এবং প্রাইভেসি প্রোটেকশন ব্যবহার করি আমি। কেউ আপনার সাইট এর হুইজ প্রাইভেসি বের করতে পারবে না। সুতরাং ফুটপ্রিন্টসটা এখানে অফ থাকবে।

সুতরাং চেস্টা করতে হবে, বিভিন্ন যায়গা থেকে ডোমেইন কেনার। আমি মনে করি এত কস্ট যে করতে পারবে, সে এটা খুব সহজেই করতে পারবে। হয়ত প্রত্যেকটা যায়গা তে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আর অর্ডার করতে হবে। নিচে কিছু সাইট এর নাম উল্লেখ করে দিচ্ছি, যেগুলো আপনার রেজিস্ট্রেশনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

হোস্টিং নির্বাচনঃ

হোস্টিং প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্ক এর বিশাল একটা পথ। এই পথটা দেখতে যতটা সহজ আসলে তার থেকে কয়েকশগুন কঠিন। কারন এখানের সামান্য ভুলের জন্য আপনার দিতে হতে পারে বিশাল মাসুল। তবে সবথেকে কঠিন কাজ হচ্ছে ইউজার নেম আর পাস-ওয়ার্ড মনে রাখা।

ইউনিক ক্লাস-সি আইপিসমুহঃ

আপনার মানি সাইট এর প্রয়োজন ব্যাকলিঙ্ক। কারন আপনি গুগলে র‍্যাঙ্ক করাতে চান। যে ব্যাকলিঙ্ক আপনাকে  ভোটের মত কাজ করবে। সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্ক এর জন্য প্রয়োজন ইউনিক ভোট।

আপনার প্রাইভেট ব্লগ নেট-ওয়ার্ক সেই কাজ টা করবে, যেটা আপনি চাচ্ছেন। ইউনিক ভোটের কাজ। তাই লিঙ্কিং করার পূর্বে জানার প্রয়োজন আসলেই কি আমার প্রাইভেট ব্লগ নেট-ওয়ার্ক কি আসলেই ইউনিক ভোট দিতে পারতেছে কি না। তার পুর্বে আসলে জানা প্রয়োজন ইউনিক সি ক্লাস আইপি আসলে কি ?

একটা আইপি অ্যাড্রেস এর ৪ টি ব্লক থাকে। আমরা সবাই জানি। এটা ভাগ করা থাকে, A,B,C, D দ্বারা। এখানের এই সি কে আমরা সি ক্লাস আইপি বলে থাকি।

AAA.BBB.CCC.DDD

এখানের এই সি ক্লাস আইপি আপনার প্রত্যেকটা সাইট এর হোস্টিং পরিবর্তন হয়ে যাবে। আর যার জন্য আমরা সি-ক্লাস আইপি ব্যবহার করব।

কোন হোস্টিং কোম্পানি বাছাই করবেনঃ

প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক এর হোস্টিং নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার একটা রুল

“এসইও হোস্টিং” কোম্পানি থেকে যত কিলোমিটার দূরে থাকা যায়, ততই মঙ্গলজনক।

কিছু কারনে অনেক মার্কেটাররা এসইও হোস্টিং সাজেস্ট করেন। তার পেছনে আসলে একটা যুক্তি সেটা হচ্ছে,  অতি সহজেই সবগুলা ব্লগকে ম্যানেজ করা। কিন্তু এসইও হোস্টিং কখনও প্রাইভেট ব্লগের নেটওয়ার্ক এর জন্য সেফ না।

আপনি যেহেতু চান, সমস্ত প্রকার ফুটপ্রিন্টস যেকোনো ভাবেই সব থেকে সেপারেট রাখতে সেহেতু প্রত্যেকটা যায়গা আপনাকে বন্ধ করে রাখতে হবে। যদি ভাবেন যে, গুগল এর পিএইচডি করা কর্মচারীরা বোকা যে , আপনি বলছেন যে “দেখ, আমি একজন এসইও হোস্টিং প্রোভাইডার” । কিন্তু তারা দেখছে না । এরকম কিছু ভেবে থাকলে আর পিবিএন আপনার জন্য না।

যাই হোক আমি কয়েকটি কোম্পানি থেকে সার্ভিস ব্যবহার করেছি। সে কারনে আপনাদের কে রিকমেন্ড করতে পারি, আপনারা IX Web Hosting থেকে খুব কম এবং সি-ক্লাস আইপি সহ হোস্টিং কিনতে পারবেন। যদি কোন ধরনের ভয় – ভীতি ভিতরে কাজ করে, সমস্যা নেই, সোজা আমাকে মেইল (me@tafserahmed.com) করবেন। অবশ্যই চেস্টা রাখব সাহায্য করার।

সাইট সেটিংঃ

সাইট সেটআপের শুরুতে একটু বলে রাখি, যদি পপুলার সব সিএমএস (কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) গুলোর সম্পর্কে ধারনা কম থাকে, তবে একটু ইউটিউবে ঘাটাঘাটি করুন। এবং অ্যাডমিন প্যানেল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা নিন। আস্তে আস্তে বাকীগুলা রপ্ত করতে পারবেন।

আমি সর্বদা ৬০ ভাগ প্রাইভেট নেটওয়ার্ক রান করি ওয়ার্ডপ্রেসে এরপর বাকি ৪০ ভাগ র এইচটিএমএল,জুমলা  এবং দুর্পালে নেটওয়ার্কগুলো রান করে থাকি।

নিচের ৩ টা ধাপ ফলো করুন আপনার নিশ নেটওয়ার্ক এর জন্য।

  • ইন্সটাল করুন ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম
  • থিম এবং প্লাগিন সেটআপ করুন
  • কনটেন্ট পোস্ট করুন এবং অথোরিটি সাইট এর সাথে লিঙ্কিং করুন।

যদি আপনি ৫ থেকে ১০ সাইট দ্বারা টি প্রাইভেট ব্লগিং করলে সেটা ম্যানেজ করা খুবই সহজ। যদি প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক আপনার প্রথম হয়, তবে চেস্টা রাখবেন, ৫-১০ টা দিয়েই শুরু করা। এরপর আপনি ৫০ টি দিয়ে করুন। সমস্যা নাই।

এটা নিজে করতে পারলে ভালো। যদি নিজে নাও পারেন, কোন একজন এক্সপার্ট এর সাহায্য নিন, প্রয়োজনে লাইভ প্রোজেক্ট থেকে শিখে নিন। এতে করে আপনি পরবর্তীতে যদি বড় কোন নেটওয়ার্ক করেন সেক্ষেত্রে আপনার ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টকে খুব সহজেই ম্যানেজ করতে পারবেন। তাকে বোঝাতে আপনার সুবিধা হবে। কারন এই ধরনের প্রোজেক্টে নাম তে হলে আপনাকে ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট রাখাটা একটা সময় জরুরি হয়ে পড়ে।

 নেটওয়ার্ক ম্যানেজঃ

যদি আপনি চিন্তা করেন, আমি নেটওয়ার্ক ম্যানেজ করার জন্য টুলস ব্যবহার করি এবং আমি সেটা রিকমেন্ড করব, তাহলে হয়ত আপনি ভুল কিছু ভেবে বসে আছেন। আমি সাধারনত একটা স্প্রেডশিট অর্থাৎ এক্সেলশিট ব্যবহার করি আমার সবগুলা নেটওয়ার্ক ম্যানেজ করা জন্য।

একটা এক্সেলশিটে কি ধরনের জিনিস থাকতে পারে সেটা নিচে আমি একটা চেকলিস্ট দিলামঃ

  • রেজিস্ট্রেশন অ্যাকাউন্ট তথ্য লিখুন
  • ডোমেইন এবং হোস্টিং অ্যাকাউন্ট এর তথ্য সংরক্ষন করুন
  • নেমসার্ভার অ্যাড করুন
  • ইন্সটল ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা অথবা ডুর্পাল সাথে, থিম এবং প্লাগিন্স
  • ইউজার নেম এবং পাস-ওয়ার্ড সংরক্ষন করুন
  • এবাউট আস পেজ, কন্টাক্ট আস পেজ, প্রাইভেসি এবং পলেসি পেজ তৈরি করুন
  • পূর্বের ইন্সটল করা প্লাগিন অথবা পেজগুলা ডিলিট করুন ( যেগুলা ডিফল্টভাবে চলে আসে)

আমি আমার প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্ক এর জন্য যে এক্সেলটি ব্যবহার করি সেটি আপনাদের জন্য উম্মুক্ত করে দিলাম। এখান থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

পিবিএন ম্যানেজমেন্ট এক্সেলশিট ডাউনলোড করুন

এক্সেলশিটটি দেখলেই আপনি দেখতে পারবেন যে, সুন্দরভাবে প্রত্যেকটি ট্যাব আকারে দেওয়া আছে। যেখানে শুধুমাত্র আপনার তথ্যগুলো দিয়েই সেভ করতে পারবেন। যদি আপনি নিজে না করেন, তবে আপনার ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট এর কাছ থেকে শুধুমাত্র আপডেট এক্সেলশিট নিয়ে চোখ বুলালেই বুঝতে পারবেন।

কনটেন্ট রাইটিংঃ

প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক এর কথা বললেই সবাই মনে করে কনটেন্ট বোধ হয় এখানে স্পুন করে দিলেই হয়। কিন্তু একদমই না। যদি পেনাল্টি খেতে চান তবে করতে পারেন, আমার কোন এলার্জি নেই তাতে। কনটেন্ট লিখতে হবে সম্পূর্ণ আপনি আপনার সাইটে যেভাবে লিখেন সেভাবে। এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট কিভাবে লিখবেন সেটা নিয়ে আমার যে লেখা টা আছে, পড়ে নিতে পারেন আরও একবার। নিচে কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করে দিচ্ছি যাতে করে আপনাদের জন্য সুবিধা হয় বুঝতে।

  • কমপক্ষে ৫০০ ওয়ার্ড এর হওয়া উচিৎ
  • কনটেন্ট এর মধ্য  রিলেটেড ইমেজ এবং ভিডিও রাখা উচিৎ
  • কি-ওয়ার্ড ডেনসিটি ভুলে যেতে হবে। কনটেন্ট কোনভাবেই সার্চ ইঞ্জিনের জন্য লেখা যাবে না। রিডার ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট লিখতে হবে।
  • লিঙ্কিং  করতে হবে, তবে অথোরিটি সাইটে এর যেটা রিসোর্সফুল। এতে গুগল আপনার সিটিআর রেশিও বাড়ে এবং গুগল আপনাকে প্রাওরিটি তে রাখে।

যদি আপনি কনটেন্ট রাইটার না হোন সেক্ষেত্রে আপনি কি করবেন। আর আমি নিজেই বা কি করি? এত বড় নেটওয়ার্ক এর কনটেন্ট  তো সহজ বিষয় না। আমি  যে ধাপগুলো ফলো করিঃ

  • আপওয়ার্ক অথবা ফ্রীল্যান্সার থেকে একজন রাইটারকে হায়ার করি যে কিনা ৫০০ ওয়ার্ড ইউনিক এবং রিসোর্সফুল কনটেন্ট দিবে ৫ ডলারের বিনিময়ে।
  • কনটেন্টগুলো যখন আমার হাতে এসে পৌছায়, আমি প্রিমিয়াম টুলস দিয়ে কনটেন্ট এর গুনগত মান চেক করে নিই।
  • সবগুলা কনটেন্ট আমি আপলোড করে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখি ড্রাফট করি অথবা কনটেন্ট ক্যালেন্ডার তৈরি করে শিডিউল করে রাখি।
  • শেষ ধাপ, মানি সাইট লিঙ্কিং । মানি সাইট  লিঙ্কিং এর ক্ষেত্রে মাথায় রাখবেন যেন, আপনার এঙ্করে ভেরিয়েশন থাকে।  আপনি হোমপেজ বেস মানি সাইট লিঙ্কিং এর কনটেন্ট অনপেজে রাখতে চান তবে সেটাও করতে পারবেন। একটা ব্যাপার মাথায় রাখবেন, আপনার মানি সাইট আপনার নিজের না, কতটা ন্যাচারাল হলে আপনার মানি সাইটকে লিঙ্কিং করতে পারবেন আপনার প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্কে, চেস্টা রাখবেন অতটাই ন্যাচারাল কাজ করা।

লিঙ্কবিল্ডিংঃ

নিশ সাইট এর সাথে লিঙ্কিংঃ

আপনার মানি সাইট এর সাথে লিঙ্কিং করুন । কিন্তু অভার লিঙ্কিং থেকে বিরত থাকুন। হোমপেজ থেকে’ ১ টা লিঙ্ক-ই যথেষ্ট আপনার মানি সাইট এর। সর্বদা মাথায় রাখবেন, এঙ্কর যেন ভেরিয়েশন থাকে। কারন গুগল এলগোরিদম যখন আপডেট করে, সে সময় তারা সাইট এর সমস্ত তথ্যগুলোকে বিশ্লেষণ করে । সুতরাং যেন, কোনভাবেই স্পষ্ট না হয় যে, আপনি নিজে লিঙ্কিং করছেন আপনার নিজের প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক থেকে। কিছু টিপস নিচে দিয়ে দিলামঃ

  • এক্সাক্ট ম্যাচ কি-ওয়ার্ড ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। যেমনঃ “Google Panda”
  • আপনার ব্র্যান্ড এর ইউআরএল বা এঙ্কর ব্যবহার করুন। যেমনঃ “www.googlepanda.com”
  •   লং-টেইল কি -ওয়ার্ডের লিঙ্কিং করুন। যেমনঃ “Best google panda update in 2015”

যদি আপনি এটা মেনে চলতে পারেন, আমার মনে হয় না যে, গুগল আপনাকে স্প্যাম হিসেবে ধরবে। যতদূর সম্ভব চেস্টা রাখতে ঝবে স্প্যামি না হয়, এমন কিছু থেকে এড়িয়ে চলা। অভার অপটিমাইজেশন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমি অনেক সময় আমি অন্য রিলেভেন্ট সাইটকে লিঙ্কিং করি ন্যাচারাল লুক নিয়ে আসার জন্য।

লেখা একদম শেষ পথে, তবে তার পূর্বে আরও কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করতে চাই, যেগুলো মেনে চললে আশা করি ভবিষ্যতে আপনাকে কোন ধরনের সমস্যাতে পড়তে হবে না। এবং আপনি একটা পাওয়ারফুল প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবেন।

  • কখনই আপনার নেটওয়ার্ক সাইটগুলোর সাথে ইন্টারনাল লিঙ্কিং করবেন না। আপনি যে সাইটগুলো দিয়ে প্রাইভেট নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন, সেইগুলোর একটার সাথে আরেকটি লিঙ্ক থেকে বিরত থাকবেন।
  • ৩ টি ধাপ ফলো করে প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক সর্বোচ্ছ ৩ টি লিঙ্ক আপনার মানি সাইটে করতে পারেন। ধাপ ৩ টি হচ্ছেঃ কি- ওয়ার্ড, র ইউআরএল, এবং কি-ওয়ার্ড ভেরিয়েশন ।
  •  কোনভাবেই স্পুন কনটেন্ট ব্যবহার করবেন না।
  • আউটবাউন্ড লিঙ্ক ব্যবহার করুন। তবে মাথায় রাখবেন যেন, অথোরিটি হয়। যেমনঃ উইকি, ইউটিউব ইত্যাদি।
  • প্রাইভেট ব্লগ থেকে লিঙ্ক সেল করবেন না। এতে জুস পাস হবে। ফুল জুসটা নিজে খাওয়ার চেস্টা করেন। সেল করলে সেই জুস ভাগ করে দিতে হবে। তাই নিজের বানানো জুস নিজেই খাওয়ার চেস্টা করুন।
  • প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্কি এর সাইটগুলোর জন্য ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করুন, অথোরিটি বাড়ানোর জন্য। এর জন্য আপনি লিঙ্কসার্চিং  টুলস ব্যবহার করতে পারেন।

যাই হোক, অনেক কথা হল প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক নিয়ে। আরও সামনে কথা হবে ইনশাল্লাহ প্রাইভেট ব্লগিং নেটওয়ার্ক নিয়ে। যেকোনো ধরনের সমস্যাতে পড়লে সোজা বাংলাদেশ ডিজিটাল মার্কেটিং কমিউনিটি ফোরামে চলে আসবেন। আর প্রশ্ন করে সমধান নিয়ে নিবেন এক্সপার্টদের কাছ থেকে।[/sociallocker]

Comments

comments