এসইও-র কিছু অখণ্ডনীয় যুক্তি

আলোচনাটি মুলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর বেসিক থেকে এডভান্স লেবেল পর্যন্ত। একজন পরিপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার হতে হলে আপনাকে অনেক কিছুই জানতে হবে। কাজের  থেকে বেশি জানতে হবে ট্রিকস।  আমি যখন এসইও নিয়ে কথা বলি তখন সব থেকে বেশি কাজের চেয়ে অকাজের কথাগুলো বেশি বলি। মানে এসইও ছাড়াই কথা বলি। এতে অনেকে মনে করে আমি হয়ত  কোনভাবে শিখাব না,  তাই অন্য কোন টপিকস নিয়ে আলোচনা করছি।

মূল কথা যে আমার প্রথম ক্লাস করতে আসে সে প্রথম ঘণ্টাতে কনফিউজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ঠিকই সাড়া দিয়ে বলে স্যার আপনার উপর প্রথম দিকে খুব রাগ হয়ে গিয়েছিল। এবং এই কথা টা প্রত্যেক প্রথম ক্লাসে আমাকে শুনতে হয়। এর আসল কারন একটাই E=mc স্কয়ার  দিয়ে যদি পৃথিবীতে স্রষ্টা বলে কিছু নেই এটা প্রমান হয় তবে E= SEO  এইটা প্রমান হবে। আসলে মূল কথা টা এই যে সর্ব প্রথম এসইও করতে গেলে আপনাকে লজিক বুঝতে হবে। আপনাকে যে কোন কিছু কে যুক্তি দিয়ে প্রমান করতে হবে এইটা না ওইটা। যখন আপনার ভিতর এই জিনিস টা ভালোভাবে স্থান পাবে অর্থাৎ আপনি যখন এই যুক্তি কৌশলটা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারবেন তখন এসইও করা আপনার জন্য সহজ হবে। কেন বলছি এই কথাগুলো এখন নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন।

[sociallocker]

সব সময় একটা দিক আপনি আজকে থেকে চর্চা করা শুরু করবেন বিভিন্ন দিক দিয়ে যুক্তি খণ্ডন প্রাকটিস করা। এটা আপনার ফ্রেন্ডদের সাথে বেশি করবেন। এই কারনে করবেন যে  আপনি একটা জিনিস দেখবেন আপনার কথার পাল্টা জবাব দিতে পারে শুধুমাত্র আপনার ফ্রেন্ড। তাই যুক্তি খণ্ডন চর্চা করার একটি সুন্দর মাধ্যম হতে পারে আপনার ফ্রেন্ড।

একটা জিনিস ভুল সেটা আপনিও জানেন কিন্তু ওই ভুল জিনিস টা কে সঠিক হিসেবে আপনার ফ্রেন্ড এর সামনে উপস্থাপনা করতে হবে। আপনার ফ্রেন্ড ও জানে এইটা ভুল বলতেছে তবুও ওই ভুল জিনিসটা কে সঠিক করে তার উপর প্রতিস্থাপন করা টা আপনার মুল কাজ। আর এই কাজটি যখন আপনি খুব সহজেই করতে পারবেন তখন দেখবেন এসইও আপনার কাছে পানি হয়ে গেছে। শুধুমাত্র এসইও না। আপনার পড়ালেখার দিক থেকেও আপনি একধাপ এগিয়ে গেছেন।

আপনার না জানা একটি প্রশ্ন পরীক্ষা তে পড়েছে কিন্তু আপনি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন খুব সহজেই। কারন ওই প্রশ্নের উত্তর টা আপনি আপনি যুক্তি দিয়ে দেবেন। আপনি চিন্তা করতে থাকবেন আসলে এই প্রশ্ন টা কি বলছে সেই প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে আপনি একটা উত্তর দিতে সক্ষম। এটা প্রমানিত একটি কথা। আজকে থেকে আপনি চেষ্টা করুন দেখবেন কাজে আসবে।

আমাকে আমার স্যার ২ বছর ধরে শুধু এই  যুক্তি খণ্ডন এর উপর প্রাকটিস  করিয়েছিলেন। সে সারাক্ষন ভুল কিছু বলে আমাকে সেটা বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করাতো। সে এমন কিছু যুক্তি আমার সামনে উপস্থাপন করতো যে আমি কোন ভাবেই সেই যুক্তি খণ্ডন করতে পারতাম না। আমার ওই ক্ষোভ শুরু হয় স্যার প্রতিদিন আমারে ভুল বোঝায়ে যায় সেটা প্রমান করে দেই আর আমি সেটা পারি না। এভাবে চলত তুমুল লড়াই আমার আর আমার স্যার আর ভিতর। এমনকি এখন চলে যুক্তিতে জেতার লড়াই। আমি আর স্যার যেখানেই যেতাম কোন না কোন টপিকস নিয়ে লড়াই শুরু হয়ে যেত। এভাবেই আমার যুক্তি খণ্ডন জ্ঞান টা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাই। যদিও এখন আমি তার সাথে পেরে উঠি না। তবু আমার কাছ থেকে জিততে হলে তাকে প্রচুর ঘাম ঝরাতে হয়। অনেক সময় সে ইচ্ছা করে আমাকে জিতিয়ে দেয়।

তো সব কথার একটা কথা যুক্তি খণ্ডন করা জানতে হবে ভালোভাবে। একজন পারফেক্ট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার হতে হলে যুক্তি খণ্ডন জানা টা আপনার জন্য ফরয বলতে পারেন। কারন যুক্তি খণ্ডন আপনাকে চিন্তা করার শক্তি দেয়। আর যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি সক্ষম হন। আমরা সবাই জানি এসইও এর কোন অধ্যায় নেই। তবে আপনি যখন একজন এসইও অপটিমাইজার হিসেবে নিজেকে দাড় করাবেন তখন এমন কিছু কিছু বিদঘুটে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন যেটা কখনও আপনি জানেন না।

কিন্তু কি বলবেন ? যদি উত্তর না দিতে পারেন তাহলে তো আপনারে ময়লার ধুলার সাথে মিশিয়ে দিয়ে অপমান করবে। সে যে উত্তর জানে সেটা না আপনি যুক্তি  দিয়ে একটা উত্তর তৈরি করবেন । সেটা সে মানতে চাইবে না কিন্তু তার যুক্তি খণ্ডন করে আপনার যুক্তিটা তার উপর প্রতিস্থাপন করা টা একজন এসইও স্পেশালিষ্ট এর কাজ। আর জিনিই এই কাজগুলো করত সক্ষম তিনিই স্পেশালিষ্ট হিসেবে নিজেকে দাবী করতে পারেন। এই যুক্তি খণ্ডন বিষয়ের এর পিছনে এত বকবক করার কিছু কারন রয়েছে।

এটা মনে রাখবেন যে, এখন  কিন্তু সেই পূর্বের মত সার্চ ইঞ্জিন নাই। ব্যাকলিঙ্ক, বুকমারকিং অথবা কনটেন্ট এর ভিতর কি-ওয়ার্ড এর ছড়াছড়ি করলেই কিন্তু একটি ওয়েবসাইট কে সামনে নিয়ে আসা যায় না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আপডেট হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যদি সেই পরিস্থিতির সাথ মোকাবেলা না করতে পারেন তাহলে আপনি কখনও একজন এসইও স্পেশালিষ্ট না। আর যে সময় যে পরিস্থিতি আসুক না কেন সেটা মোকাবেলা করে যুক্তি  দিয়েই আপনি একটি সাইট কে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নিয়ে আসতে পারবেন।

যুক্তি খণ্ডন এর উপর তো অনেক কথা হল। এখন একটু কাজের দিকে যায়। ধরুন আপনি কোন ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে একটা কাজ পেয়েছেন। কাজ টা হল কোন একটি কি ওয়ার্ড দিয়ে আপনাকে গুগল টপ পজিশনে আসতে হবে তাহলে আপনার কি জানা দরকার এবং কি কি দরকার সেটা সম্পর্কে আজকে আলোচনা করব।

Google-SEO-Processes-Explained

 

প্রাথমিক যে কাজ গুলো করা প্রয়োজনঃ সর্ব প্রথম আপনি ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে সাইট এবং কি-ওয়ার্ড নিয়ে, এখন আপনাকে যে কাজ গুলো করতে হবে সেটা হল প্রথমে আপনাকে যে কি-ওয়ার্ড টি গুগল এ সার্চ করতে হবে দেখতে হবে প্রথম ১০ টি সাইট এর সব কিছু। সেই সাথে নোট করা শুরু করবেন তাদের সাথে আপনার ক্লায়েন্ট বা আপনার সাইট এর মধ্যে কতটুকু পার্থক্য সব দিক থেকে।

যা যা দেখার প্রয়োজন বিশেষভাবেঃ

  • পেজ র‍্যাঙ্ক দেখতে হবে। পেজ র‍্যাঙ্ক দেখতে হলে আপনি এই টুল টি ব্যবহার করতে পারেন। টুল লিঙ্ক এখানে ।
  • সাইট এর ব্যাকলিঙ্ক দেখতে হবে। সেই সাথে কিওয়ার্ড এর ডাইভারসিটি  টা দেখবেন। কি ধরনের সাইটে লিঙ্ক বিল্ডিং করেছে সেটা দেখাও জরুরী। এত কিছু একবারে জানতে এই টুল টি ব্যবহার করতে পারেন। টুল লিঙ্ক এখানে । যদিও এটা প্রিমিয়াম টুলস। তবে আপনি দিনে ২ টা সাইট এনালাইসিস করতে পারবেন।
  • কি- ওয়ার্ড টুল থেকে কি-ওয়ার্ড এর কম্পিটিশন টা দেখতে হবে।কি-ওয়ার্ড এর কম্পিটিশন দেখতে হলে আপনি এই টুল টি ব্যবহার করতে পারেন। টুল লিঙ্ক
  • সাইটগুলোর সোশ্যাল এঙ্গেজমেন্ট কেমন, সেটাও দেখতে হবে।
  • সাইট অথোরিটি কেমন সেগুলা জেনে নিতে হবে। মজ টুলস দিয়ে পিএ বা ডিএ চেক করে নিবেন।
  • সাইট এলেক্সাটা চেক করে নিতে পারেন। তাহলে আপনার একটা ধারনা তৈরি হয়ে যাবে।

তো আপনি আপনার কম্পিটিটর সহ আপনার ক্লায়েন্ট বা আপনার সাইট এর রিসার্চ আপনি সম্পন্ন করলেন। নিশ্চয় আপনি এখন বুঝতে পারছেন আপনার সাথে আপনার  কম্পিটিটর এর কতটুকু পার্থক্য।

এখন আপনার চিন্তা করার সময়। কারন আপনাকে এখন চিন্তা করতে হবে কি করলে সাইট টি আমি ওই পজিশনে নিয়ে আসতে পারব। কি কি কাজ করলে সাইট টি আপনি উপরে নিয়ে আসতে পারবেন এই চিন্তা করা শুরু করতে হবে। আর সেই অনুযায়ী আপনি কাজ করতে থাকবেন। আর আপনি যখন এই চিন্তা শক্তি কাজে লাগিয়ে সফল হবেন তখন আপনি একজন পারফেক্ট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার।

সাধারনত একটা বিষয় খেলা রাখবেন সেটা হল অনেক ওয়েব সাইট আছে যারা কাজ করে না অর্থাৎ তারা ওই কি- ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করেনা। কিন্তু তাদের সাইট টপ পজিশনে থাকে। তো এইসব কি- ওয়ার্ড গুলো টপ পজিশনে নিয়ে আসা খুব সহজ। কারন ওই সাইট ওই কি- ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করছে না। কিন্তু ভিজিটর আসছে। কারন তাদের সাইট একটা ভালো অথোরিটি বা ট্রাস্ট ব্যাপারটা আছে।

আর আপনি যদি ওই ধরনের কি-ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবে । এবং প্রচুর পরিমান ভিজিটর আপনি নিয়ে আসতে পারবেন করতে পারবেন। এইভাবে আপনাকে একটি সাইট এর কাজ করতে হবে। তবে কিছু জিনিস মাথায় রাখা বেশ জরুরী বর্তমানে। কারন এসইও নিয়ে প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। যত আপডেট হচ্ছে তত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই আপনি কিছু কাজ করবেন যার মূল্য আপনি সারাজীবন পাবেন। সেই গুলোর ভিতর আছে।

 

Seo1-1024x349

  • ব্যাকলিঙ্ক। তবে ডু-ফলো এবং রিলেটেড সাথে উচ্চ পেজ র‍্যাঙ্ক।
  • উইকি, ইডূ, গভ ব্যাকলিঙ্ক করবেন হাইপেজ র‍্যাঙ্ক এর।
  • গেস্ট ব্লগিং করবেন তবে পরিমান মত। একাধারে করতে থাকবেন না। আর গেস্ট ব্লগিং এর উপর সব সময় একটু বেশি জোর দিবেন।
  • ওয়েব ২.০ আপনার কি-ওয়ার্ড টি কে টপে আনতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।
  • ফোরাম পোস্টিং টা অনেক হেল্পফুল। এখান থেকে ভিজিটর সহ কি-ওয়ার্ড এর গুরুত্ব টা অনেক বেশি পাওয়া যায়। তবে ফোরাম কিন্তু ডু-ফলো এবং রিলেটেড টা অনেক বেশি কাজ দেই।
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং টা অনেক বেশি কাজে দিবে। লিঙ্কদিন, ফেসবুক এবং টুঁইটার আপনাকে অনেক বেশি কাজে দিবে।

কমপ্লিট একটা প্ল্যান তৈরি করে সেই সাথে ওই কাজের জন্য কত পরিমান সময় লাগবে সেটার একটা রুটিন করে নিবেন। অবশ্যই যেন কাজগুলো সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি হয় সেটা মাথায় রেখে কাজ করবেন। কোন কাজ করার সময় তাড়াহুড়া করে কাজ করবেন না। কারন সার্চ ইঞ্জিনকে অপটিমাইজ করতে হলে অনেক বেশি ধৈর্যর পরিক্ষা দিতে হবে। আর যদি সাকসেসফুল হতে চান তবে ধৈর্যর পরিক্ষা আপনাকে দিতেই হবে। তাই এমন কিছু করবেন না যেন সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে লালমার্ক করে রাখে। সময় একটু বেশি নিবেন তারপরও একটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। ।

আমি এখানে কমপ্লিট কোন গাইডলাইন দেইনি লিঙ্কবিল্ডিং এর জন্য। কারন সেটা লিখতে হলে এই পোস্ট তা ৬ হাজার এর ওয়ার্ড এর চলে যাবে। ওয়েব কোডের ব্লগের সাথে জড়িয়ে থাকুন, খুব দ্রুত আমি লিঙ্কবিল্ডিং গাইডলাইন নিয়ে লিখব।

তো  অনেক কথা হইল। এখন লেখাটার সঠিক প্রতিফলন দিতে পারে আপনার চিন্তা ।  তবে একটা জিনিস মাথাই রাখবেন কাজ করতে করতে যেন আপনি বন্ধ করে দিবেন না। সব সময় মাথাই রাখবেন আজকে যে পরিমান কাজ করছি আগামীকাল তার ২০% বেশি করতে হবে। এই ফর্মুলা টা মাথাই রেখে কাজ চালিয়ে যাবেন। আশা করি সফল হবেন।

লেখাটি পূর্বে প্রকাশিল হয়েছিল ওয়েব কোড ব্লগ 

[/sociallocker]

Comments

comments

Leave a Comment